রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং ও জালিয়াতির দায়ে ৯৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কারসহ বিভিন্ন শাস্তি

প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং ও জালিয়াতির দায়ে ৯৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কারসহ বিভিন্ন শাস্তি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস (ফাইল ছবি)।

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র‍্যাগিং, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, মারামারি এবং প্রশাসনিক সিল জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগে মোট ৯৯ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সিন্ডিকেট সদস্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এই শাস্তির সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশকৃত তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগের মোট ৯৯ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৪ জন, সিল জালিয়াতির অভিযোগে ৩ জন এবং জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়ারের ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগে ১ জনসহ মোট ১৮ জনের এক শিক্ষাবর্ষ বা দুই সেমিস্টারের ছাত্রত্ব স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া দুই শিক্ষার্থীর হলের আবাসিকতা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং ছাত্রত্ব স্থগিত হওয়া ১৮ জনসহ মোট ২০ জনকে ভবিষ্যতে হলের আবাসিক সুবিধার জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

পাশাপাশি, র‍্যাগিংয়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার দায়ে বিভিন্ন বিভাগের আরও ৭৯ জন শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিললে আরও বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। শাস্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

কোন বিভাগে কত শাস্তি: ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগে ৩১ জন, ইতিহাস বিভাগে ১৮ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগে ১৫ জন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগে ১৩ জন, অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগে ৭ জন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগে ৪ জন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে ৪ জন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগে ৪ জন, অর্থনীতি বিভাগে ২ জন এবং গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগে ১ জন রয়েছেন। সবমিলিয়ে বিভিন্ন বর্ষের ৯৯ জন শিক্ষার্থী এই শাস্তির আওতায় এসেছেন।

প্রশাসন ও উপাচার্যের বক্তব্য: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, “ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী র‍্যাগিং, মারামারি এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। শাস্তির উদ্দেশ্য কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস করা নয়, বরং তাদের ভুল শুধরে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ করে দেওয়া। একই সঙ্গে প্রশাসন অভিভাবকদেরও তাদের সন্তানদের আচরণ সম্পর্কে অবহিত করতে চায়।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “র‍্যাগিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে বর্তমান প্রশাসন কোনো ধরনের ছাড় বা কম্প্রোমাইজ করবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রায় এক শ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ছাত্রত্ব স্থগিত ও আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু বিভাগের ঘটনা উপকমিটিতে তদন্তাধীন রয়েছে, সেগুলোর তদন্ত শেষ হলে পরবর্তী সিন্ডিকেটেও দোষীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন