মাদকের প্রতিবাদ: নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
মো. ইয়াছিন রুবেল, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রকাশ্যে মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায় মো. ফারুক ওরফে শহীদ (৫০) নামের এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া। এর আগে, গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ২টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ফারুক ওরফে শহীদ উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন।
অন্যদিকে, গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা দুই যুবক হলেন— একই গ্রামের মুন মুন্সিবাড়ির আল আমিনের ছেলে মো. আরশাদ ওরফে আকাশ (২৪) এবং আকবর পুত্রের বাড়ির দুলালের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন আকাশ (১৯)।
নিহতের বড় ছেলে মো. ইমরান হোসেন জানান, আটক আকাশ একজন চিহ্নিত মাদকসেবী। সম্প্রতি এলাকায় তাঁর বেপরোয়া মাদকসেবনের প্রতিবাদ করেছিলেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা জহির। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে তেঁতুলতলা বাজারের একটি দোকানে আকাশের মাদকসেবন নিয়ে কথা উঠলে আকাশ অত্যন্ত বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন।
এ সময় দোকানে উপস্থিত থাকা বিএনপি নেতা ফারুক তাকে শান্ত হতে বলেন এবং শাসন করে ঘাড় ধরে দোকান থেকে বের করে দেন। এই ঘটনার জের ধরে পরদিন বুধবার সকালে আকাশ ফারুককে হত্যার হুমকি দেন।
ইমরান আরও বলেন, "বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাবা বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে পৌঁছালে আকাশ পেছন থেকে এসে বাবার মেরুদণ্ডে শক্ত ছুরি দিয়ে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় বাবাকে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তিনি মারা যান।"
কবিরহাট থানার ওসি রোমেল বড়ুয়া জানান, মাদকসেবনের প্রতিবাদ করার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের গণপিটুনিতে আহত আটক দুই অভিযুক্ত বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এআইএল/সকালবেলা
|