শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ণ
শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

সুমন ঘোষ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম শীর্ষ নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। 

গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) তাঁর এই মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার প্রস্তুতিপর্বে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠায় শাজাহান সিরাজের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

দিবসটি উপলক্ষে শাজাহান সিরাজ ফাউন্ডেশন, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজ এবং শাজাহান সিরাজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচির শুরুতে সকালে ঢাকার বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করা হয়। এছাড়া ঢাকা ও টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কোরআনখানি, দুস্থ শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ এবং স্থানীয় মসজিদ ও মন্দিরগুলোতে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গণের রাবেয়া সিরাজ একাডেমিক ভবন হলরুমে এক বিশেষ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও মরহুমের কন্যা সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মরহুমের স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন বলেন, "শাজাহান সিরাজ নিজেই একটি ইতিহাস। পাকিস্তানি শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বহুমুখী ভূমিকা বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাসের অন্যতম প্রধান অধ্যায়।" তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর শিক্ষা, পরিবেশ ও জাতীয় রাজনীতিতে তিনি অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, তাঁর পিতা আজীবন গণমানুষের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য কাজ করে গেছেন। পিতার আদর্শ ধারণ করে তিনিও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নারীর উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে কালিহাতীবাসীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

ঐতিহাসিক এই ছাত্রনেতা ১৯৬৬-এর ছয় দফা ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্র-জনতার উত্তাল সমাবেশে তিনি মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন এবং পরবর্তীতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন