সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার আজব ডায়েট রহস্য!

প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ণ
সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার আজব ডায়েট রহস্য!

স্পোর্টস ডেস্ক: মাঠের সবুজ গালিচায় লিওনেল মেসির বাঁ পায়ের জাদুকরী পাস আর আর্জেন্টিনার টানা ছয় ম্যাচের অপরাজিত থেকে সেমিফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব নিয়ে যখন পুরো বিশ্ব তোলপাড়, ঠিক তখনই আলবিসেলেস্তেদের ড্রেসিংরুম ও ডাইনিং টেবিলের এক চমৎকার ভেতরের খবর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্বপ্নের ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে নামার আগে, খেলোয়াড়দের মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি এবং শারীরিক সক্ষমতা ১০০ ভাগ ধরে রাখতে আর্জেন্টিনা থেকে প্রায় ৫০০ কেজি প্রিমিয়াম গরুর মাংস (Beef) উড়িয়ে আনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা দলের বেস ক্যাম্পে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন খেলোয়াড়দের চেনা খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি বজায় রাখতেই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) এই বিশাল মাংসের চালানের বন্দোবস্ত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত কঠোর ও জটিল আমদানি নীতি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফুড সেফটি গাইডলাইন মেনেই এই ৫০০ কেজি মাংস বিমানে করে দলের হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আসা হয়েছে। এই চালানে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত সুস্বাদু কিছু মাংসের বিশেষ ‘কাট’ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • লোমো (Lomo): অত্যন্ত নরম ও চর্বিহীন ফিলের মিনিয়ন কাট।

  • ভাসিও (Vacío): ফ্ল্যাঙ্ক স্টেক, যা জুসি টেক্সচারের জন্য বিখ্যাত।

  • এন্ত্রানিয়া (Entraña): স্কিল্ট স্টেক, আসাদোর জন্য অন্যতম সেরা।

  • মাতামব্রে (Matambre): পাতলা রোস্টেড বিফ রান।

  • পেসেতো (Peceto): রাউন্ড আই কাট।

  • আসাদো দে তিরা (Asado de tira): রিবস বা হাড়সহ বিশেষ বারবিকিউ কাট।

আর্জেন্টিনা দলের সাপোর্ট স্টাফ ও পুষ্টিবিদদের মতে, বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ ও অত্যন্ত হাই-ইনটেনসিটি টুর্নামেন্টে ঘন ঘন ভ্রমণ এবং দ্রুত রিকভারির (পেশির ক্লান্তি দূর করা) জন্য খেলোয়াড়দের সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিফ কাটগুলো প্রোটিন ও আয়রনের দারুণ উৎস, যা ম্যাচ শেষে ফুটবলারদের পেশি পুনর্গঠনে জাদুর মতো কাজ করে।

তবে এর পেছনে কেবল শারীরিক পুষ্টিই নয়, রয়েছে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণও। আর্জেন্টাইন সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ‘আসাদো’ (Asado) বা কয়লার আগুনে মাংস পুড়িয়ে দলবদ্ধভাবে খাওয়া। যেকোনো ম্যাচের আগে ও পরে চাপমুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এই বারবিকিউ পার্টি টনিক হিসেবে কাজ করে। ড্রেসিংরুমের চাপ এক নিমেষেই দূর হয়ে যায় এই আসাদোর ধোঁয়ায়।

বিদেশে টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী খাবার সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার নজির আর্জেন্টিনা এবারই প্রথম গড়েনি। এর আগে শীতকালীন অলিম্পিক ও ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে গিয়ে ইউরোপের দেশ নরওয়ে নিজেদের খাদ্যসংস্কৃতি ও ডায়েট ঠিক রাখতে প্রায় ৫৮০ কেজি নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়েছিল। যার মধ্যে ছিল বিশ্বখ্যাত নরওয়েজিয়ান স্যামন ফিশ, ট্রাউট, হ্যালিবাট এবং বিভিন্ন স্থানীয় চিজ।

আজ রাতে বিশ্বজয়ী মেসিবাহিনীর ইংল্যান্ড বধের মিশনে মাঠের ট্যাকটিক্সের পাশাপাশি এই ‘৫০০ কেজি’ খাঁটি আর্জেন্টাইন প্রোটিন কতটা শক্তি যোগায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়!

মন্তব্য করুন