প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় শিক্ষা পদক গ্রহণ করলেন ভাঙ্গার চম্পা আক্তার
এ.টি.এম. ফরহাদ নান্নু, ভাঙ্গা (ফরিদপুর): জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হওয়ায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গা ১ নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা চম্পা আক্তার প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হাত থেকে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গ্রহণ করেছেন।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬' প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত শনিবার জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। চম্পা আক্তার ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে দেশসেরা কাব শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হন।
চম্পা আক্তারের সুদক্ষ নেতৃত্বে তাঁর কাব ইউনিট থেকে এ পর্যন্ত রেকর্ডসংখ্যক ৫৬ জন শিক্ষার্থী মর্যাদাপূর্ণ ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে, যা প্রাথমিক শিক্ষা ও কাবিং ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কাবিং কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইতোপূর্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারত ও নেপাল সফরের সুযোগও লাভ করেন। এছাড়া ২০১৭ ও ২০২৩ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হন।
চম্পা আক্তারের এই গৌরবময় অর্জনে ভাঙ্গা উপজেলা ও ফরিদপুর জেলায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ভাঙ্গার বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ, ধারাভাষ্যকার ও সাংবাদিক এ.টি.এম. ফরহাদ নান্নু তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “চম্পা আক্তারের এই অর্জন আমাদের সবার জন্য পরম গর্বের। জাতীয় পর্যায়ে তাঁর এই কৃতিত্বে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর এ সম্মান ভাঙ্গা উপজেলার শিক্ষা অঙ্গনের মর্যাদা ও গৌরবকে বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও তিনি তাঁর নিষ্ঠা, মেধা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলবেন।”
পুরস্কার গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় চম্পা আক্তার বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গৌরবের। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়; এটি আমার বিদ্যালয়, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সবার। যারা সবসময় আমাকে পথ চলতে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। ভবিষ্যতেও শিশুদের সুশিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি এবং কাব কার্যক্রমের প্রসারে আমি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”
এআইএল/সকালবেলা
|