জলাবদ্ধতায় হাসপাতালে যেতে না পেরে প্রসূতি-নবজাতকের মৃত্যু
মোঃ ইয়াছিন রুবেল, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে অস্বাভাবিক জোয়ার ও জলাবদ্ধতার কারণে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় নাজমা আক্তার (৩০) নামে এক প্রসূতি ও তাঁর অনাগত নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমা আক্তার ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. হক সাবের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈরী আবহাওয়া ও উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত চলায় আজ সকালে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ইসলামপুর গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সকালে নাজমা আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হলে স্বজনরা তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু যাতায়াতের একমাত্র নৌকাটি ভাঙা থাকায় এবং চারদিকে থৈ থৈ পানির কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ঘরেই প্রসবের চেষ্টার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অনাগত সন্তানসহ ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন, এটি ছিল তাঁর তৃতীয় প্রসব।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল নেই। জরুরি চিকিৎসার জন্য সবাইকে নদী পেরিয়ে হাতিয়া পৌর এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু জোয়ারের পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নাজমাকে হাসপাতালে নেওয়া যায়নি।"
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিঝুমদ্বীপে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার অভাব রয়েছে। এই দ্বীপে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এআইএল/সকালবেলা
|