উদ্বোধনের পর উধাও সড়কের ইট, চরম দুর্ভোগে গ্রামবাসী

প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ণ
উদ্বোধনের পর উধাও সড়কের ইট, চরম দুর্ভোগে গ্রামবাসী

মোঃ ইমরান মাহমুদ, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নে উন্নয়ন কাজের কথা বলে সংসদ সদস্যকে দিয়ে সড়ক উদ্বোধন করিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের ইট তুলে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। সড়কটি পাকা করার কোনো সরকারি বরাদ্দ বা প্রকল্প না থাকা সত্ত্বেও এমন অভিনব জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রশিদপুর ইউনিয়নের পাকুল্যা ভাঙ্গুনী ঘাট থেকে গজারীআটা ভাঙা ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটিতে কয়েক বছর আগে ইটের সলিং (এইচবিবি) করা হয়েছিল। এতে পাকুল্যা, গজারীআটা, গুপীনাথপুর, হাটুভাঙ্গা, ডুয়াইলপাড়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের যাতায়াত বেশ সহজ ছিল। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে ঠিকাদার পরিচয়ে একটি চক্র সড়কটি পাকা (কার্পেটিং) করার ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরুর ভান করে। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে কাজটির উদ্বোধনও করানো হয়। উদ্বোধনের পর পরই চক্রটি পুরো সড়কের ইট তুলে নিয়ে যায়। সংসদ সদস্য নিজে উদ্বোধন করায় স্থানীয়দের মনে কোনো সন্দেহ তৈরি হয়নি।

পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উক্ত সড়কটি পাকা করার কোনো প্রকল্প বা দরপত্রই গৃহীত হয়নি। একইভাবে সদর উপজেলার আরও দুটি গ্রামীণ সড়ক থেকেও জালিয়াতি করে ইট তুলে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে সড়কগুলো থেকে ইট তুলে নেওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাকুল্যা গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান জানান, রাস্তা বেহাল হওয়ার কারণে কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় এলাকার কৃষকরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।

জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ জানান, সদর উপজেলার তিনটি সড়ক থেকে প্রতারণা করে ইট তুলে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, "প্রতারক চক্রটি উন্নয়ন কাজের ভুয়া কথা বলে আমাকে বিভ্রান্ত করে উদ্বোধনে নিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে প্রকৃত জালিয়াতির ঘটনা জানতে পেরে আমার নিজস্ব উদ্যোগে মূল হোতা আবদুল মান্নানসহ ১১ জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।" তাঁরা বর্তমানে কারাগারে আছেন উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, দ্রুত নতুন দরপত্র আহ্বান করে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চক্রটি দুটি সড়ক থেকেই অন্তত ২৬ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের সরকারি ইট তুলে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। এই ধূর্ত প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন