উত্তরে তিস্তা আর পূর্বে কুশিয়ারা-সোমেশ্বরীর দাপট

প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ণ
উত্তরে তিস্তা আর পূর্বে কুশিয়ারা-সোমেশ্বরীর দাপট

অনলাইন ডেস্ক: টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের তিনটি প্রধান নদীর পানি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে দেশের অন্তত দুটি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হয়ে মাঝারি ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) দেশের বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বিপৎসীমার ওপরে ৩ নদীর পানি: বন্যা তথ্য কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দেশের তিনটি নদীর পানি তিনটি পৃথক স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্টেশনগুলো হলো:

  • তিস্তা নদী: গাইবান্ধার তারাপুর স্টেশন।

  • কুশিয়ারা নদী: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশন।

  • সোমেশ্বরী নদী: নেত্রকোনার কলমাকান্দা স্টেশন।

এই তিন নদীর অববাহিকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সংলগ্ন চরাঞ্চল ও নিচু এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যেই পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত মনু ও খোয়াই নদী সতর্কসীমায় বা তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে এই দুই জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার তীব্র শঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার আভাস দেওয়া হয়েছে।

পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তিস্তা নদীর অববাহিকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী মর্ণেয়া ইউনিয়নে নবনির্মিত একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশ তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বাঁধের পাশের একটি বসতবাড়িতে আকস্মিক ভাঙন দেখা দিলে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। গৃহহীন পরিবারটি তাদের ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মহাসড়ক ও জেলা সড়কে এনে স্তূপ করে রেখেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় বাঁধের ভেতরে থাকা আরও বেশ কিছু গ্রাম ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বন্যা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং ও সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন