রিমান্ড শেষে কারাগারে সেই হরিদাস
স্টাফ রিপোর্টার: ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের (মানি লন্ডারিং) মামলায় রাম মূর্তি নির্মাণের প্রধান উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে ৪ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক কে এম রকিবুল হুদা।
কারাগারে আটকে রাখার আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে বিধি মোতাবেক আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ সময় হরিদাসের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে দেশ-বিদেশ থেকে টাকা আসার উৎস, এই বিপুল অর্থ জমাদানের কারণ এবং তা কার কাছে হস্তান্তর বা কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে— সে বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য মানি লন্ডারিং মামলার রহস্য উন্মোচনে অত্যন্ত সহায়ক হবে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামির দেওয়া তথ্যগুলো বর্তমানে গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় জামিন চেয়ে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।
এর আগে, গত ১২ জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে হরিদাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম। মামলা দায়েরের পরপরই রাতেই গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ১৩ জুলাই আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
সিআইডির দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, হরিদাস চন্দ্র তরণী আপাতদৃষ্টিতে একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হলেও নেপথ্যে তিনি অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা ও দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার চক্রের সাথে জড়িত। তাঁর নামে থাকা ৯টি ব্যাংক হিসাবের নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ব্যবসার সাথে কোনো সংগতি ছাড়াই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে কোটি কোটি টাকা নগদ জমা হয়েছে। হরিদাস ও তাঁর সহযোগীরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র গঠন করে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ অপরাধলব্ধ আয় রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে তার প্রকৃত উৎস ও মালিকানা গোপন করার চেষ্টা করেছেন, যা দেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
এআইএল/সকালবেলা
|