যে কারণে আটাব নির্বাচন স্থগিত করল এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ণ
যে কারণে আটাব নির্বাচন স্থগিত করল এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড

স্টাফ রিপোর্টার: অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর আসন্ন ‘আটাব নির্বাচন-২০২৬’ স্থগিত ঘোষণা করেছে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর আরবিট্রেশন বোর্ড।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উভয় পক্ষের শুনানি ও তদন্ত শেষে এই চূড়ান্ত আদেশ দেয় বোর্ড। ভোটার তালিকায় নজিরবিহীন জালিয়াতি, মৃত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্তি, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানকে ভোটার করা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ডের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের সত্যতা মেলায় এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ডের চূড়ান্ত শুনানিতে আটাব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধান অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে— সরকারের পক্ষ থেকে নিযুক্ত প্রশাসকের আইনগত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূত ও বেআইনিভাবে নির্বাচন বোর্ড এবং আপিল বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তালিকায় বিপুলসংখ্যক ভুয়া ও বেনামি ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি মৃত ব্যক্তিদেরও ভোটার বানানো হয়েছে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কোনো প্রকার বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বেশ কিছু ট্রাভেল এজেন্সিকে অনৈতিকভাবে ভোটার তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী আপিল বোর্ডের তিন সদস্যের উপস্থিতিতে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও, মাত্র দুজন সদস্য উপস্থিত থেকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শুনানি শেষ করেন। অথচ পরবর্তীতে প্রকাশিত রায়ের কপিতে অসদুপায়ে তিনজনেরই স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ডের কিছু কর্মকর্তা নিয়মবহির্ভূতভাবে পূর্ববর্তী তারিখ (ব্যাকডেট) ব্যবহার করে নথিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যা সরাসরি জালিয়াতি এবং সরকারি পদের চরম অপব্যবহারের শামিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগী সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, এই পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আটাবের বিদায়ী প্রশাসক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ও চরম দায়িত্বহীনতা ছিল। মূলত একটি নির্দিষ্ট পকেট কমিটিকে সুবিধা দিতেই শুরু থেকেই এই নির্বাচনী তামাশার ছক সাজানো হয়েছিল।

সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, এই কলুষিত, জালিয়াতিপূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনোভাবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। ফলে সাধারণ ভোটারদের অধিকার রক্ষার্থে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই স্থগিতাদেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ আটাব সদস্যদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা এই জালিয়াতির সাথে জড়িত দোষী কর্মকর্তা ও কুশীলবদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। তবে নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আটাব বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন