নাটোরে ম্যাটারনিটি হাসপাতালে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১
মোল্লা মো: আরিফুল ইসলাম, নাটোর: নাটোরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে (ম্যাটারনিটি হাসপাতাল) নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টি, ভাঙচুর, চিকিৎসককে মারধর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে সদর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মো. সাকিব তরফদার (২৮) নাটোর সদর উপজেলার আগদিঘা খাঁপাড়া এলাকার মৃত শাহজাহান তরফদারের ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই ২০২৬ নাটোর ম্যাটারনিটি হাসপাতালে এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করে একটি উগ্র 'মব' বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে। এ সময় তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালায়। এমনকি ঘটনা তদন্তে যাওয়া এক চিকিৎসকের ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে মারধর করে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেয় এবং সরকারি কাজে চরম বাধা সৃষ্টি করে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় হাসপাতালের সহকারী উপ-পরিচালক ডা. মো. শাহাবুজ্জামান বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বাদী ডা. শাহাবুজ্জামান বলেন, "চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে পুঁজি করে একদল ব্যক্তি হাসপাতালের জরুরি সেবা বিঘ্নিত করেছে এবং চিকিৎসকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।"
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনছুর আলী জানান, মামলার পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর ছিল। রাতেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি জড়িতদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "সরকারি হাসপাতালে ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের গায়ে হাত তোলার মতো অপরাধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হবে।"
এআইএল/সকালবেলা
|