তৃতীয় বিয়ের পর লাভ জিহাদ বিতর্ক জবাব দিলেন আমির খান

প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ণ
তৃতীয় বিয়ের পর লাভ জিহাদ বিতর্ক জবাব দিলেন আমির খান

বিনোদন ডেস্ক: ব্যক্তিগত জীবন এবং আদর্শিক অবস্থান নিয়ে বরাবরই সোচ্চার বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেতা আমির খান। গত ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ওপার বাংলার বা বিদেশী বংশোদ্ভূত পাত্রী গৌরী স্প্র্যাটকে (Gauri Spratt) তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেন ৬১ বছর বয়সী এই তারকা। তবে বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রক্ষণশীলদের একাংশ আমির খানের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ এনে কুরুচিপূর্ণ ট্রোলিং শুরু করে।

অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন আমির খান। প্রখ্যাত ভারতীয় গণমাধ্যম ‘রেডিফ’ (Rediff)-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সম্পূর্ণ বিষয়টিকে ভিত্তিহীন এবং হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

আমির খান তাঁর সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর জীবনে আসা কোনো নারীই বৈবাহিক সম্পর্কের খাতিরে বা ভালোবাসার টানে নিজের ধর্ম বিসর্জন দেননি। অভিনেতা বলেন,

“গৌরী, কিরণ রাও কিংবা রিনা দত্ত—আমার কোনো স্ত্রী বা সঙ্গী কখনো তাদের নিজস্ব ধর্ম পরিবর্তন করেনি। আমাদের প্রতিটি বিয়েই সম্পন্ন হয়েছে দেশের প্রচলিত সিভিল ম্যারেজ (Civil Marriage) বা বিশেষ বিবাহ আইনের মাধ্যমে। ফলে সেখানে কাউকেই ধর্মান্তরিত করার কোনো আইনি বা পারিপার্শ্বিক প্রশ্নই ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিন্তাভাবনা ও জীবন যেন আরও হাস্যকর হয়ে উঠছে।”

বর্তমান স্ত্রী গৌরীর ধর্মীয় পরিচয় স্পষ্ট করে আমির আরও বলেন, “গৌরী কিন্তু সনাতন হিন্দু ধর্মেরও নন, তিনি মূলত একজন খ্রিস্টান। তবে তিনি নিয়মিত কোনো কট্টর ধর্মচর্চাও করেন না। আমাদের সম্পর্কগুলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, কোনো ধর্মীয় এজেন্ডার ওপর নয়।”

নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার তীব্র বিরোধিতা করে আমির খান তাঁর পারিবারিক কাঠামোর উদার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারটি দীর্ঘকাল ধরেই অত্যন্ত অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময়। আমার নিজের দুই বোন হিন্দু পরিবারে বিয়ে করেছেন। আমার একমাত্র মেয়ে ইরা খানের (Ira Khan) স্বামী নূপুর শিখরেও একজন হিন্দু। এমনকি আমার আপন চাচাতো ভাই মনসুর খান একজন খ্রিস্টান নারীকে বিয়ে করে সুখে সংসার করছেন। আমাদের পরিবারে প্রতিটি ধর্ম ও সংস্কৃতিকে সমানভাবে সম্মান করা হয়।”

আমির খান এর আগে ১৯৮৬ সালে রিনা দত্তকে বিয়ে করেছিলেন, যার সাথে ২০০২ সালে বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তিনি কিরণ রাওকে বিয়ে করেন এবং ২০২১ সালে তাঁদের দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে।

তবে বিচ্ছেদের পরও দুই সাবেক স্ত্রীর সাথে আমির খানের প্রফেশনাল ও পার্সোনাল সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। আমিরের প্রথম পক্ষের সন্তান জুনায়েদ ও ইরা এবং কিরণের পক্ষের সন্তান আজাদের সহ-অভিভাবকত্ব (Co-parenting) তাঁরা যৌথভাবে ও অত্যন্ত সুন্দরভাবে পালন করে আসছেন। গত ৫ জুলাই আমিরের তৃতীয় বিয়ের ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও রিনা দত্ত ও কিরণ রাওয়ের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি বলিউডে আধুনিক পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।

সাক্ষাৎকারের শেষে আমির খান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মানুষের ব্যক্তিগত সুন্দর সম্পর্কগুলোকে যখন সমাজ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় রঙ দিয়ে বিচার করার চেষ্টা করে, তখন তা অত্যন্ত দুঃখজনক রূপ নেয়।

মন্তব্য করুন