৫ মের নৃশংসতায় সবাই কেঁদেছে: মঞ্জু
বিশেষ প্রতিবেদক: আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র নৃশংসতা দেখে মানুষ নিরবে কেঁদেছে, আর মা-বোনেরা ঘরে বসে দোয়া করেছেন। তবে ৫ আগস্টের ফ্যাসিবাদী বীভৎসতার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। রাজপথের শক্তিশালী প্রতিরোধের মুখে স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে; এটিই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আসল তাৎপর্য।
আজ বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 'আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়' শীর্ষক এই সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চালনায় সভায় অতিথ হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ, ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ ও মো. আলিফ।
মজিবুর রহমান মঞ্জু তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি পালিয়ে গেলেও তাদের প্রেতাত্মারা পরবর্তীতে বিভিন্ন দলে ভিড়েছিল। ঠিক তেমনি এবারও ফ্যাসিবাদের কিছু দোসর রয়ে গেছে, যারা তাদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আলেম-ওলামারা সাধারণত সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও দেশের ক্রান্তিলগ্নে বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর অভ্যুত্থান—সবখানেই তাঁদের আত্মত্যাগ অনস্বীকার্য।
খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী বলেন, দেশপ্রেমিক জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখেই দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। তবে মূলগত ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, কোটা আন্দোলনের শুরুতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সরাসরি কোনো স্বার্থ না থাকলেও কেবল অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তারা আবাবিল পাখির মতো রাজপথে নেমে এসেছিল।
এ সময় এবি পার্টির ঢাকা মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এআইএল/সকালবেলা
|