ফেনীতে খাল খননের ৮ কোটি টাকা ফেরত, জনমনে ক্ষোভ
এম. জহিরুল হক মিলন, ফেনী: ফেনীতে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না হতেই অর্থবছর শেষ হওয়ার অজুহাতে প্রায় ৮ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলার ৫টি উপজেলায় ৭টি প্রকল্পের জন্য মোট ১২ কোটি ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ২১ লাখ ২৪ ১৩৫ টাকা। বাকি ৭ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ টাকা অব্যয়িত দেখিয়ে ফেরত দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক।
জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সোনাগাজীর 'ডাঙ্গি খাল' পুনঃখনন প্রকল্পে ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বরাদ্দের বিপরীতে খরচ হয়েছে মাত্র ৭৬ লাখ টাকা; ফলে ফেরত গেছে ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অন্যদিকে, পরশুরামের বক্সমাহমুদের 'ভেদা খাল' প্রকল্পে ৪৬ লাখ টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে, যার কাজ শেষ হয়েছে ৮৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
অবশ্য প্রশাসন দাবি করেছে, বাকি ৫টি খালের—ফুলগাজীর 'গতিয়া খাল', সদরের 'দাউদপুর-মধুয়াই' ও 'মোহাম্মদ আলী খাল', এবং দাগনভূঞার 'বিরলী' ও 'সিলোনিয়া বাজার-নোয়াজপুর খাল'—কাজ শতভাগ সম্পন্ন করে নিয়ম মেনেই উদ্বৃত্ত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া জানান, অর্থবছর শেষ হয়ে যাওয়ায় বিধি অনুযায়ী টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে পুনরায় বরাদ্দ পেলে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা হবে। সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনামুল হক অবশ্য এ বিষয়ে রাতে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে তার বাইরে অবশিষ্ট অর্থ নিয়ম অনুযায়ী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। খননকৃত এসব খালের সুফল কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এআইএল/সকালবেলা
|