নতুন সরকারকে স্বাগত চীনের প্রভাবে উদ্বেগ ভারতের
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশে সংঘটিত ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে বলে মনে করছে ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভায় পেশ করা ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন রূপরেখা প্রণয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে সুনির্দিষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ভারত অত্যন্ত মেপে মেপে ‘পরিমিত ও হিসাবনিকাশভিত্তিক অ-হস্তক্ষেপ নীতি’ গ্রহণ করেছিল। পরবর্তীতে গত ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয় এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণকে ভারত অত্যন্ত ‘ইতিবাচক’ দৃষ্টিভঙ্গিতে গ্রহণ করেছে।
প্রতিবেদনে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয় যে, নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে টেলিফোনে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। ভারতের এই দ্রুত ও কৌশলগত পদক্ষেপের প্রশংসা করে পার্লামেন্টারি কমিটি জানায়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকারের সাথে অমীমাংসিত বিষয়গুলো ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে’ সমাধানের এটিই উপযুক্ত সময়।
তবে ভারতের এই কূটনৈতিক ইতিবাচকতার পাশেই তীব্র শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব। প্রতিবেদনে বলা হয়, মোংলা বন্দরের সামগ্রিক আধুনিকায়নে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বৃহৎ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও চীন।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাংলাদেশের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি নির্মাণ ও আধুনিকায়নে চীনের অংশগ্রহণকে। ভারতের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেনস নেক) নিরাপত্তার জন্য চীনের এমন ভৌগোলিক উপস্থিতি বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি।
|