মহারাষ্ট্রে স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে জাংক ফুড বিক্রি নিষিদ্ধ
অনলাইন ডেস্ক: শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তাদের মধ্যে পুষ্টিকর খাবারের মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজ্যের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এক আদেশের মাধ্যমে সকল ধরনের স্কুলের অভ্যন্তরে এবং সীমানার ৫০ মিটারের মধ্যে যেকোনো জাংক ফুড বিক্রি, প্রদর্শন, বিজ্ঞাপনী প্রচার ও বিনামূল্যে বিতরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
মহারাষ্ট্র সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি রাজ্যের সরকারি, বেসরকারি, অনুদানপ্রাপ্ত কিংবা আবাসিক—সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার স্কুল এবং সেখানে অধ্যয়নরত প্রায় দুই কোটি শিক্ষার্থী এই নতুন সামাজিক ও আইনি সুরক্ষার আওতায় আসবে।
এফডিএ-এর নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী—অতিরিক্ত চর্বি, স্যাচুরেটেড ট্রান্স-ফ্যাট, অতিরিক্ত চিনি এবং অধিক লবণযুক্ত খাবার যেমন বড়া পাও, সমোসা, ডুবো তেলে ভাজা স্ন্যাক্স, আলু চিপস, কোল্ড ড্রিংকস, কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয়, চকলেট এবং আইসক্রিমের মতো খাবারগুলো এখন থেকে স্কুলের আশপাশের ৫০ মিটার সীমানায় আর কেনাবেচা করা যাবে না।
বুধবার এই আদেশ জারির পর মহারাষ্ট্রের এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ধে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “রাজ্যব্যাপী পরিচালিত ‘নিরাপদ খাদ্য, নিরাপদ মহারাষ্ট্র’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই কড়া উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা। শৈশব থেকেই সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তা একটি সুস্থ সমাজ নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকা রাখবে।”
আদেশে আরও বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান স্কুলের ক্যাফেটেরিয়া, হোস্টেল কিংবা ‘মিড-ডে মিল’ রান্নার কাজে নিয়োজিত রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে বিশেষ ফুড লাইসেন্স ও নিবন্ধন নিতে হবে। একইসাথে স্কুলে ‘ফুড সেফটি ডিসপ্লে বোর্ড’ বসানো, খাদ্য নিরাপত্তা তদারককারী নিয়োগ এবং ‘ইট রাইট স্কুল’ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্কুল পরিচালনা পর্ষদকে।
এই নিয়ম সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না তা পরিদর্শনে খুব শিগগিরই মাঠ পর্যায়ে নামবে এফডিএ প্রতিনিধি দল। নিয়ম ভঙ্গকারী দোকান কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠানো, খাদ্যপণ্য বাজেয়াপ্ত করা এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
|