সেপ্টেম্বরে খুলছে নারায়ণগঞ্জ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সেপ্টেম্বরে খুলছে নারায়ণগঞ্জ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
নির্মাণকাজের শেষ পর্যায়ে থাকা নারায়ণগঞ্জ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৃশ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী শিল্পঘন অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে যোগাযোগের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। সময় বাঁচানো, দীর্ঘদিনের যানজট কমানো এবং শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহন সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া প্রায় ১০.৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নারায়ণগঞ্জ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটির কাজ এখন একদম শেষ পর্যায়ে।

সবকিছু নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিতল সড়কটি।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের জুনেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে টানা বৃষ্টিপাত, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা ও কারিগরি প্রতিবন্ধকতার কারণে সময়সূচি কিছুটা পিছিয়ে যায়। বর্তমানে সড়কে কার্পেটিং, ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক কাজ জোরকদমে চলছে। পঞ্চবটি মোড়ে কিছু নির্মাণকাজ বাকি থাকলেও বেশিরভাগ সংযোগ সড়কের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পের সার্বিক তথ্য তুলে ধরে প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, “বর্তমানে প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। বৃষ্টি ও জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে কাজ কিছু দিন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। আমরা আশা করছি সেপ্টেম্বরে উড়ালসড়কের অংশটি যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। আর নিচের ছয় লেনের সড়কের কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আমরা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছি।”

প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বৃহৎ অবকাঠামোতে মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়কের আওতায় সাত কিলোমিটার দুই লেনের অ্যাটগ্রেড সড়ক এবং তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত ৩.৭৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। একইসঙ্গে পঞ্চবটি থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত ৯.৬ কিলোমিটার উড়ালসড়কে ওঠানামার জন্য ছয়টি র‍্যাম্প সংযুক্ত করা হয়েছে।

এই সড়ক চালুর ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে শিল্প খাত। নারায়ণগঞ্জ বিসিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিকেএমইএর সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, “ফতুল্লা বিসিকের প্রায় সাড়ে ৩০০ প্রতিষ্ঠানে চার লাখের বেশি শ্রমিক কর্মরত। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী গাড়ি এই রুটে চলে। যানজট দূর হলে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং সময় অনেকটাই বেঁচে যাবে।”

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, “জমি অধিগ্রহণের সিংহভাগ জটিলতা নিরসন করা হয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে তিন জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।”

মন্তব্য করুন