সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ফেরাতে কিয়েভে হাজারো মানুষের গণবিক্ষোভ

প্রকাশ: শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ণ
সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ফেরাতে কিয়েভে হাজারো মানুষের গণবিক্ষোভ
কিয়েভের ক্রেশচাটিক সড়কে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ

অনলাইন ডেস্ক: ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে আকস্মিকভাবে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাঁকে পুনরায় স্বপদে বহাল করার দাবিতে রাজধানী কিয়েভে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) কিয়েভের কেন্দ্রস্থল ও প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনিক কার্যালয়ের কাছে হাজার হাজার ইউক্রেনীয় নাগরিক জড়ো হয়ে এই সরকারবিরোধী প্রতিবাদ জানান।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সী ফেদোরভ। তবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে আকস্মিক এক সরকারি রদবদলের অজুহাতে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনীয়দের মধ্যে তীব্র জনরোষের জন্ম নেয়।

শুরুতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, সাবেক সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্যের কারণে ফেদোরভকে সরানো হয়েছিল। কিন্তু জনমতের তুমুল চাপে মাত্র এক সপ্তাহ পর সেনাপ্রধান সিরস্কিকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে এই জল্পনা আরও জোরালো হয় যে, ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা খাতের দুর্নীতি দমন পদক্ষেপে উদ্যোগী হওয়ার কারণেই মূলত ষড়যন্ত্র করে ফেদোরভকে সরানো হয়েছে।

শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা কিয়েভের ঐতিহাসিক অংশগুলোতে মিছিলের পর ক্রেশচাটিকে সমবেত হয়ে স্লোগান দেন—‘জনগণই শক্তি’। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রযুক্তি খাতের কর্মী ও সাবেক সেনাসদস্যদের মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও ড্রোন প্রযুক্তির প্রসারে ফেদোরভের ভূমিকা অনন্য ছিল। তাঁকে না ফিরিয়ে নতুন কাউকে বসালে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের কৌশলগত বড় ক্ষতি হবে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখন পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখাননি। তিনি সাময়িকভাবে ইয়েভহেনি খমারাকে প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়েছেন।

কিয়েভভিত্তিক ‘ইউরোপিয়ান পলিসি ইনস্টিটিউট’-এর পরিচালক মাত্তেও মেকাচ্চি জানান, এটি কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধ নয়; বরং যুদ্ধ পরিচালনার সাফল্য ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—মিখাইলো ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদে ফেরত না আনা পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন