ইরান যুদ্ধে অস্ত্র সংকটের মুখে যুক্তরাষ্ট্র, দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন

প্রকাশ: শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধে অস্ত্র সংকটের মুখে যুক্তরাষ্ট্র, দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন

অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তপ্ত সামরিক সংঘাত ও ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের কারণে বহুগুণে বেড়েছে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার, যার ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সংরক্ষিত আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে এসেছে।

পেন্টাগনের সামরিক নীতি-নির্ধারকরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অথবা একই সময়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো সামরিক সংঘাত (যেমন—ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে) তৈরি হলে, বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনা, মূল ঘাঁটি ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

ফক্স নিউজের বিশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS)-এর গবেষণায় উঠে এসেছে—মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পূর্বে পেন্টাগনের কাছে বিখ্যাত ‘প্যাট্রিয়ট’ (Patriot) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ২,৩০০টি ইন্টারসেপ্টর সংরক্ষিত ছিল। তবে টানা যুদ্ধের পর এই সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়ে বর্তমানে ৮২৭টিরও নিচে নেমে এসেছে।

একইভাবে মার্কিন বাহিনীর অত্যাধুনিক ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড (THAAD) ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে থাড ইন্টারসেপ্টরের সংখ্যা যেখানে ছিল ৪৫২টি, টানা ব্যবহারে তা এখন ২৭৮টিরও নিচে নেমে গেছে।

ঘাটতি পূরণে লাগবে অন্তত ৩ বছর

সিএসআইএস সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, সামরিক কারখানাগুলোতে রাতারাতি এসব উচ্চ প্রযুক্তিবিশিষ্ট অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব নয়। বর্তমানে ব্যবহৃত এই বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর পুনরায় তৈরি করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পেন্টাগনের অন্তত ৩ বছর বা তার বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

বর্তমানে ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একযোগে নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে গিয়ে ওয়াশিংটনের সামরিক সরবরাহের ওপর এই চরম বৈশ্বিক চাপ তৈরি হয়েছে।

জরুরি তহবিলে ১৮.২ বিলিয়ন ডলার

ক্ষেপণাস্ত্রের আকাশচুম্বী এই ঘাটতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে পেন্টাগন। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৬৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি প্রতিরক্ষা তহবিলের মধ্যে কেবল ১৮.২ বিলিয়ন ডলারই রাখা হয়েছে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌবাহিনীর দূরপাল্লার ‘টমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য, যাতে শূন্য হতে বসা সামরিক ভাঁড়ার দ্রুত পূরণ করা যায়।

কম দামি অস্ত্রের দিকে ঝুঁকছে মার্কিন সামরিক বাহিনী

এই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক চাপ বিশ্লেষণ করে পেন্টাগন এখন তাদের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে। তারা অতিরিক্ত দামি ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে কম খরচের অস্ত্র সংগ্রহের দিকে নজর দিচ্ছে। পেন্টাগনের ২০২৭ সালের প্রাথমিক প্রতিরক্ষা বাজেটে চাওয়া অস্ত্রের অর্ধেকেরই একক মূল্য ৬ লাখ ডলার বা তার চেয়ে কম। এর লক্ষ্য হলো কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বজায় রাখার সক্ষমতা তৈরি করা।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘ লড়াই কেবল আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিকেই বদলে দেয়নি, এটি পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক সামরিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার ভিতকেও বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে।

মন্তব্য করুন