আ.লীগ নেতার বাড়িতে দাওয়াতে আসা যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ণ
আ.লীগ নেতার বাড়িতে দাওয়াতে আসা যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
বরিশালের গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত ৭ নেতাকর্মী

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতার বাসভবনে দাওয়াত খেতে এসে গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে অভিযুক্তদের বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাঁদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলুর বসতবাড়ি থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সৈকত গুহ পিকলুর ছোট ভাই সলিল গুহ পিন্টু, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগ মনোনীত সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মহিবুল আলম খোকন, পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ওয়াজ করনী আকন, বাটাজোর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মিঠুন হালদার, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম সরদার, মাহিলাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ হাওলাদার এবং পৌর ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য সজীব সরদার।

ঘটনার বিশদ বিবরণ দিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, “আমাদের বসতবাড়িতে পারিবারিকভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মী পূজার ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে আমার কয়েকজন কাছের শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতদের নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যার দিকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কতিপয় স্থানীয় কর্মী-সমর্থক এসে আমাদের বাড়িতে চড়াও হয় এবং অনুষ্ঠানে আসা ছয়জন অতিথিসহ আমার ছোট ভাই পিন্টু গুহকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।”

তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. পারভেজ আহমেদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৭ জন ছাড়াও এজাহারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কিছু সক্রিয় নেতাকর্মী সরকারের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, আগামী ডিসেম্বর মাসে তাদের দলীয় প্রধানকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া সফল করা এবং সাংগঠনিক রাজনৈতিক কার্যক্রম জোরপূর্বক সচল করার গোপন উদ্দেশ্যে গৌরনদীর বিল্লগ্রাম এলাকার এক বসতঘরে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উপস্থিতি আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে সাতজনকে আটক করা হয়, তবে অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে সোমবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে মামলার এজাহারভুক্ত অপর আসামিদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”