ভুয়া সিআইডি পরিচয়ে মোটরসাইকেল ছাড়াতে গিয়ে আটক
হাবিবুর রহমান মুন্না, কুমিল্লাঃ বাংলাদেশ পুলিশের মর্যাদাপূর্ণ অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি’র (CID) উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সুকৌশলে প্রতারণা করে আসা রাসেল হোসেন (২৬) নামের এক প্রতারককে আটক করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে সিআইডির লোগোসংবলিত একটি ভুয়া ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি ‘সিআইডি’ লেখা কটি (Jacket) পরিহিত একটি সাজানো ছবি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) কুমিল্লা মহানগরের ব্যস্ততম শাসনগাছা এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশ এক মোটর সাইকেল চালককে থামার সিগন্যাল দেয়। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা গাড়িটির বৈধ কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চাইলে ওই চালক নিজেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করেন এবং নিজের নাম রাসেল বলে পরিচয় দেন। তবে বারবার বলার পরও তিনি মোটর সাইকেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা নিজের পদের সপক্ষে কোনো উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। ফলশ্রুতিতে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট প্রচলিত মোটরযান আইন ও নিয়ম অনুযায়ী গাড়িটি জব্দ করে ডাম্পিং স্টেশনে পাঠিয়ে দেন।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়; এর পরের দিন গত রোববার (২৫ অক্টোবর) জব্দকৃত মোটর সাইকেলটি কোনো জরিমানা বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সরাসরি কুমিল্লা জেলা ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ে হাজির হন রাসেল হোসেন। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেকে পুনরায় সিআইডির প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করে পুলিশ সদস্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তাঁর গতিবিধি, কথাবার্তার ভঙ্গি এবং পরিচয় প্রদান নিয়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) অবহিত করা হয়।
খবর পাওয়া মাত্রই জেলা ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ চৌকস টিম দ্রুত ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ে উপস্থিত হয় এবং রাসেলের পরিচয়, ব্যাজ নম্বর ও কর্মস্থল যাচাই-বাছাই শুরু করে। নিবিড় যাচাইয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ধৃত ব্যক্তি সিআইডির প্রকৃত কোনো কর্মকর্তা নন; বরং তিনি একজন সম্পূর্ণ প্রতারক।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও তাঁর ব্যবহৃত স্মার্টফোন পরীক্ষা করে পুলিশ দেখতে পায় যে, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া নাম-ঠিকানা ও পদবি ব্যবহার করে নিজেকে সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নানা উপায়ে প্রতারণা করে আসছেন। তাঁর ফোনের গ্যালারি তল্লাশি করে সিআইডির লোগোযুক্ত একটি ভুয়া আইডি কার্ডের ছবি এবং আধুনিক এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা ‘সিআইডি’ লোগোযুক্ত কটি পরা ভুয়া প্রোফাইল পিকচার বা ছবি পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন।
এ ধরনের প্রতারক চক্র ও ভুয়া আইন প্রয়োগকারী সদস্যদের অপতৎপরতা থেকে সাধারণ মানুষকে সর্বাত্মক সতর্ক থাকার জন্য বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। আটক রাসেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।