দলের নেতারা অপরাধে জড়ালে ছাড় নয়: এমপি আবু আশফাক

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ণ
দলের নেতারা অপরাধে জড়ালে ছাড় নয়: এমপি আবু আশফাক
নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক।

দলের কোনো নেতাকর্মী কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি যেকোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাঁকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দলের যত বড় নেতাই হোক না কেন, নিজের স্বার্থসিদ্ধি বা আমার নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটিয়ে অপরাধ সংঘটিত করলে তাঁকে কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না। একই সাথে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে এসব রাজনৈতিক সুবিধাভোগী অপরাধীদের আইন অনুযায়ী সাধারণের চেয়ে দ্বিগুণ শাস্তি নিশ্চিত করার সুপারিশ জানান তিনি।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “এলাকায় মাদক ব্যবসা, বাল্যবিয়ে, বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসব নিয়মবহির্ভূত অবৈধ মোটরসাইকেল চালকরাই মূলত এলাকায় মাদক পরিবহন, কিশোর গ্যাং কালচার তৈরি এবং স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের উত্যক্ত করার মতো সামাজিক অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এ সকল উৎপাত কঠোর হস্তে দমন করতে পারলে এলাকার সার্বিক অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।”

প্রবাসী অধ্যুষিত নবাবগঞ্জ উপজেলার সামাজিক চিত্র তুলে ধরে এমপি আশফাক আরও বলেন, “প্রবাসী পরিবারের কিশোর সন্তানরা মা-বাবাকে মানসিক চাপ দিয়ে দামি মোটরসাইকেল কিনে দিতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে সঠিক তদারকির অভাবে তারা নানাবিধ সামাজিক অপরাধ ও অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

উক্ত আইনশৃঙ্খলা সভায় নবাবগঞ্জের প্রবাস ফেরত ও স্থানীয় সাধারণ জনগণের প্রতিদিনের যাতায়াত কষ্ট ও যানজট নিরসনে বান্দুরা বাজার, নবাবগঞ্জ চৌরাস্তা এবং বাগমারা বাজার এলাকার অবৈধ দখলকৃত ফুটপাত দ্রুততম সময়ে উচ্ছেদ করে ফুটপাতমুক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। একই সাথে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন অতিথিরা।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াছিন খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহ আলম। এ ছাড়া উপজেলার সকল সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।