ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রা শুরু করল ‘মহানগর এক্সপ্রেস’
রেলপ্রেমী ও দেশের পর্যটকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পঞ্চম ট্রেন হিসেবে প্রথমবারের মতো সরাসরি পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে সফল যাত্রা শুরু করেছে জনপ্রিয় ‘মহানগর এক্সপ্রেস’। দেশজুড়ে সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনা করে এবং রুটটির অর্থনৈতিক লাভজনাকতা নিশ্চিত করতে পূর্বের নির্ধারিত গন্তব্য চট্টগ্রামের পরিবর্তে ট্রেনটির পথসীমা কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) নির্ধারিত সময় রাত সাড়ে ৮টায় দেশের প্রধান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের (কমলাপুর) ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনটি বিপুলসংখ্যক যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। উদ্বোধনী যাত্রায় ট্রেনটির চালক বা লোকোমাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. জাহিদুল ইসলাম মিয়া, সহকারী লোকোমাস্টার হিসেবে ছিলেন শাহ আলম এবং ট্রেন গার্ডের দায়িত্বে ছিলেন ইমরুল কায়েস। বিশেষ এই যাত্রায় ৩০২৯ নম্বর লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনের সাথে সর্বমোট ১৮টি আধুনিক কোচ যুক্ত করা হয়েছিল।
ট্রেনটির ঐতিহাসিক যাত্রা শুরুর পূর্বে প্ল্যাটফর্ম সরেজমিন ঘুরে দেখেন এবং ট্রেনের বিভিন্ন কোচে প্রবেশ করে সম্মানিত যাত্রীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি জেলার অন্তত ১০টি উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য কোনো ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই সরাসরি রেলে চড়ে কক্সবাজারে পৌঁছানোর এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হলো।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যথাক্রমে ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী এবং চট্টগ্রাম স্টেশনে নির্ধারিত বিরতি দিয়ে শেষ গন্তব্য কক্সবাজার স্টেশনে পৌঁছাবে। একইভাবে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফেরার পথেও ট্রেনটি এই নির্ধারিত প্রতিটি স্টেশনে যাত্রাবিরতি প্রদান করবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজারের (সিসিএম) দপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী মহানগর এক্সপ্রেসের (৭২২) মোট আসনসংখ্যা ৭০৬টি। অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিপরীতমুখী মহানগর এক্সপ্রেসের (৭২১) মোট আসনসংখ্যা রাখা হয়েছে ৭৩৬টি। দীর্ঘ দূরত্বের এই ট্রেনটিতে সর্বস্তরের যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে শোভন চেয়ার (নন-এসি), স্নিগ্ধা (এসি), এসি সিট (দিনে বসে যাতায়াতের আসন) এবং এসি বার্থ (রাতে শুয়ে আরামদায়ক যাতায়াতের আসন) শ্রেণিসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির সুসজ্জিত কোচ সংযুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রতীকী সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটির সাপ্তাহিক অফ-ডে বা বন্ধের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি রোববার। সপ্তাহের বাকি ছয় দিন নিয়মিত ঢাকা থেকে রাত সাড়ে ৮টায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে এবং বিপরীত দিক কক্সবাজার থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেনটি নিজ নিজ গন্তব্যে ছেড়ে যাবে।