ঢাকার রাজপথ কোনোভাবেই দখল হতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮ অপরাহ্ণ
ঢাকার রাজপথ কোনোভাবেই দখল হতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক
কলাবাগান গ্রিন রোড স্টাফ কোয়ার্টার মিলনায়তনে আয়োজিত সুধী ও নাগরিক মতবিনিময়সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

রাজধানী ঢাকার মূল রাজপথ কোনো অবস্থাতেই কাউকে অবৈধভাবে দখল করতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। একই সাথে সাধারণ নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানে বিন্দুমাত্র অবহেলা বা গাফিলতি করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার কলাবাগান গ্রিন রোড স্টাফ কোয়ার্টার মিলনায়তনে ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, রমনা ও শাহবাগ এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ নাগরিক মতবিনিময়সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। ডিএসসিসির নাগরিক সেবা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের মৌলিক সমস্যাগুলো সরাসরি শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।

ডিএসসিসি প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

অনুষ্ঠানে আগত বিভিন্ন ওয়ার্ডের নাগরিক প্রতিনিধিরা তাঁদের এলাকাভিত্তিক দীর্ঘদিনের ভোগান্তি—বিশেষ করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রমের দুর্বলতা, বর্জ্য অপসারণে অব্যবস্থাপনা, সড়ক বাতির অপ্রতুলতা এবং জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরিতে পদে পদে জটিলতার কথা সরাসরি তুলে ধরেন। প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম গভীর ধৈর্যের সাথে সকল অভিযোগ ও পরামর্শ শোনেন এবং মঞ্চে উপস্থিত সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করে সমস্যা সমাধানের কঠোর নির্দেশ দেন।

পৌর প্রশাসকের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, “ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান জটিলতাগুলোর অন্যতম হলো জলাবদ্ধতা, যা আমরা দায়িত্বভার গ্রহণের আগে থেকেই বিদ্যমান। এই জটিল সমস্যা সমাধানে আমরা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। নিউমার্কেটসহ আশেপাশের এলাকার প্রধান সড়ক ও ফুটপাতগুলো থেকে অবৈধ হকার উচ্ছেদে খুব দ্রুত বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালু করা হবে।”

রাজপথ দখলের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “কোনো অজুহাতে প্রধান রাজপথে কাউকে বসতে দেওয়া হবে না। তবে যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে চলবেন, তাঁদের জন্য মতিঝিলের নৈশকালীন মার্কেটের (নাইট মার্কেট) আদলে বিকল্প স্থান ও সময়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।”

নাগরিক সেবায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে প্রশাসক বলেন, “নগরবাসীর সঠিক সেবা পাওয়া তাঁদের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। সিটি করপোরেশনের যেকোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন বা নাগরিক চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হন, তবে আপনারা সরাসরি আমাকে জানান। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে আমরা অনতিবিলম্বে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেব।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নাগরিকদের মুখোমুখি হয়ে সিটি করপোরেশনের এমন জবাবদিহিতামূলক কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিগত সময়ের অপব্যবহার ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠে একটি আধুনিক, সচ্ছল ও বাসযোগ্য সুন্দর ঢাকা গড়তে সব স্তরের নাগরিকের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

কোনো প্রকার মাধ্যম বা মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়ার এই উদ্যোগে উপস্থিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ডিএসসিসি প্রশাসকের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।