টাঙ্গাইলে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আট বছর বয়সী এক শিশু কন্যার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর একটি চক্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এই নৃশংস ঘটনার পর নিহতের পরিবারকে আইনি ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে শিশুটি বাড়ির পাশে উপজেলা পরিষদ মাঠে খেলতে যায়। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও সন্ধান না মেলায় সখীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং এলাকায় মাইকিং করা হয়।
নিহত শিশুর বাবা অভিযোগ করে বলেন, “মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পর একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা জোগাড় করার জন্য তারা মাত্র ২০ মিনিট সময় বেঁধে দিয়েছিল। আমরা দরিদ্র মানুষ, তাও বুক ফেটে কান্নাকাটি করে কিছু টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলাম। কিন্তু পাষণ্ডরা আমার মেয়েকে বাঁচিয়ে রাখেনি, মেরে পানিতে ফেলে দিয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা পরিষদ পুকুরে একটি শিশুর লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করলে পরিবারের সদস্যরা তা শনাক্ত করেন।
লোমহর্ষক এই ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ভিডিও কলে নিহত শিশুর বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মন্ত্রী বলেন, “ঘটনাটি জানার পরপরই আমি পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমি নিজেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে শিশুটির বাড়িতে যাব। এটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো সুপরিকল্পিত অপরাধ চক্র জড়িত, তা নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। কেউ জড়িত থাকলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” একই সাথে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মুক্তিপণ দাবির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা প্রযুক্তির সহায়তায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুতই এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।”
এআইএল/সকালবেলা
|