পদ্মা-যমুনায় দস্যুতা, নৌযান শ্রমিকরা আতঙ্কে
জাহিদুল হক চন্দন, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের পদ্মা ও যমুনা নদীপথে বালুবোঝাই বাল্কহেড ও পণ্যবাহী নৌযানে প্রকাশ্যে সশস্ত্র চাঁদাবাজির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এতে প্রতিনিয়ত সর্বস্ব হারিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা।
নৌযান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শিবালয়, ঘিওর, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার নদীপথে সক্রিয় রয়েছে ১০-১২ জনের সশস্ত্র দস্যু চক্র। স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে প্রতিটি নৌযান থেকে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে মারধরসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন শ্রমিকরা।
সম্প্রতি পদ্মা নদীর তীরে বাল্কহেড মালিক সমিতি ও নৌযান শ্রমিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, হরিরামপুর উপজেলার একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতির নেতৃত্বে একটি চক্র কথিত ইজারার নামে এই নৈরাজ্য চালাচ্ছে। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ-এর নাম ভাঙিয়েও অবৈধভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সবুজ শিকদার মাস্টার অবিলম্বে নদীপথে চাঁদাবাজি বন্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এদিকে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামীমা শাহিন সতর্ক করে বলেন, নৌপথে পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার নেতিবাচক প্রভাব নির্মাণ সামগ্রীসহ সার্বিক বাজারে পড়বে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নেতা বলেন, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আফজাল হোসেন ও পাটুরিয়া নৌ থানা পুলিশ জানান, বিষয়টি সমন্বিতভাবে তদারকি করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এআইএল/সকালবেলা
|