পিরোজপুরের নেছারাবাদে তিন দিন ধরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র হামিম নিখোঁজ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ণ
পিরোজপুরের নেছারাবাদে তিন দিন ধরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র হামিম নিখোঁজ
নিখোঁজ স্কুলছাত্র হামিম খান (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর: পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় মায়ের সামান্য বকাঝকার পর অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে মো. হামিম খান (১০) নামের চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্র গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। আদরের সন্তানকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তার দরিদ্র বাবা-মা। ছেলের সন্ধানে নিজেদের সমস্ত দিনমজুরির কাজ বন্ধ রেখে এখন পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাঁরা।

নিখোঁজ হামিম খান নেছারাবাদ উপজেলার সেহাংগল গ্রামের দিনমজুর মো. জাকির খানের ছেলে। সে স্থানীয় সুন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে হামিমের মা মোসা. ছবি বেগম গৃহস্থালির নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তিনি আড়াই বছরের ছোট ছেলেকে হামিমের কোলে বসিয়ে কাজে যান। কিছুক্ষণ পর ছোট ছেলের কান্নার শব্দ পেয়ে মা ঘরে এসে দেখতে পান যে, বড় ভাই হামিমের কোল থেকে ছোট ভাইটি মাটিতে পড়ে গিয়ে কাঁদছে। ছোট শিশুটির কান্নাকাটি দেখে মায়ের মেজাজ কিছুটা চড়ে যায় এবং তিনি হামিমকে ডেকে সামান্য বকাঝকা করেন।

মায়ের এই সামান্য বকাঝকার পর ক্ষোভ ও অভিমান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় হামিম। তবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। এরপর পরিবারের লোকজন দুশ্চিন্তায় পড়ে চারপাশের আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারে কান্নার রোল পড়ে যায়।

অনুসন্ধানে পরিবার জানতে পারে, ঘটনার দিন স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক আব্দুর রহিমের গাড়িতে চড়ে হামিম স্বরূপকাঠির দিকে যাচ্ছিল। পরবর্তীতে স্বরূপকাঠি ও কাউখালী উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লায় মাইকিং ও পরিচিতজনদের বাড়িতে ব্যাপক খোঁজ নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ তিন দিনেও শিশু হামিমের কোনো সন্ধান মেলেনি।

অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর নিহতের মা ছবি বেগম বাদী হয়ে নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে মা ছবি বেগম বলেন, “শনিবার সকালে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে একটু দুষ্টুমি করার কারণে আমি ছেলেকে সামান্য বকা দিয়েছিলাম। সে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। দুপুর হলেও যখন ফিরল না, আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। অনেক জায়গায় খুঁজেও আমার কলিজার টুকরাকে পেলাম না।” কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

অন্যদিকে, দিনমজুর বাবা জাকির খানও পেটের টানে কাজের পেছনে সময় না দিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন গ্রাম ও শহর। সন্তানের মুখখানি ফিরে পেতে সমাজের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “স্কুলছাত্র হামিম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে।”

মন্তব্য করুন