ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কি বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ছে

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কি বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বরাজনীতি এবং ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যেন ক্রমশ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। ইরান ও ইউক্রেন সংঘাত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, তেলের ঊর্ধ্বমুখী বাজার এবং জলবায়ু পরিবর্তন—সব মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এমন উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ পরিষদ (UNGA) অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকরিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বহুল মাত্রায়। দীর্ঘকাল ধরে এ ধরনের সংকটময় মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে মূল বৈশ্বিক অভিভাবক মনে করা হলেও, সিএনএন-এর এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি ও সংঘাতমুখী কূটনীতি নিজেই বিশ্বব্যাপী নতুন অস্থিরতার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘায়িত ইরান যুদ্ধ ও জনপ্রিয়তায় ভাটা

ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষার জায়গা এখন ইরান যুদ্ধ। সংঘাতের শুরুর দিকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রায় সাত মাস পার হতে চলেছে। আধুনিক ড্রোনভিত্তিক যুদ্ধ এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা ফুটিয়ে তুলেছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতার কারণে ট্রাম্পের দেশের ভেতরের জনপ্রিয়তার হার বা অ্যাপ্রুভাল রেটিং কমে ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও ট্রাম্পের দাবি, তার শাসনামলে বিশ্ব দরবারে আমেরিকার মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মিত্রদের সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব

ন্যাটো ও ইউরোপীয় মিত্রদের পাশাপাশি কানাডা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী সহযোগী দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের লেনদেনভিত্তিক (Transactional) দৃষ্টিভঙ্গি এক ধরণের আস্থার সংকট তৈরি করেছে। সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সামরিক শক্তির প্রচ্ছন্ন হুমকি বা প্রতিরক্ষা ব্যয়ের কঠোর শর্ত দেওয়ার ফলে ইউরোপের দেশগুলো এখন প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর পথ খুঁজছে।

বিশ্বব্যবস্থার ঐতিহাসিক রূপান্তর

বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, আন্তর্জাতিক এই বিশৃঙ্খলার জন্য এককভাবে ট্রাম্প দায়ী নন। চীনের উত্থান, রাশিয়ার আগ্রাসী নীতি কিংবা আফগানিস্তান-ইরাক যুদ্ধের পর থেকেই পুরোনো বিশ্বব্যবস্থায় ফাটল ধরতে শুরু করেছিল। তবে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও ক্ষিপ্র রাজনৈতিক শৈলী এই পরিবর্তনকে আরও দ্রুত ও স্পষ্ট করে তুলছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির পিট বুটিগিগসহ অনেক রাজনীতিবিদের মতে, মার্কিন নীতিমালার পরিবর্তনকে বিশ্ব আর 'সাময়িক' হিসেবে দেখছে না; এটি একটি স্থায়ী ধারা এবং পুরোনো বৈশ্বিক ধারা হয়তো আর কখনোই আগের জায়গায় ফিরে আসবে না।

মন্তব্য করুন