এসাহাক হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারি ও ফাঁসির দাবি কালকিনিবাসীর
বি.এম. হানিফ, কালকিনি-ডাসার প্রতিনিধি (মাদারীপুর): মাদারীপুরের কালকিনিতে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে অতর্কিত হামলায় দুই পায়ের রগ কেটে নির্মমভাবে নিহত মো. এসাহাক সরদারের (৭৫) হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে কালকিনি পৌরসভার উত্তর জনারদন্দী এলাকায় নিহতের নিজ বাড়ির সামনে এই সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মামলা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভার উত্তর জনারদন্দী গ্রামের মো. এসাহাক সরদারের সঙ্গে একই এলাকার ঝালু মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। গত ২২ আগস্ট রাতে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওৎপেতে থাকা ঝালু মোল্লা, মো. তুহিন মোল্লা, পারভেজ মোল্লা, রবিউল মোল্লা ও লিমন মোল্লাসহ কয়েকজন এসাহাকের পথরোধ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপায় এবং তাঁর দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে গুরুতর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।
এই অমানবিক ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে কালকিনি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি তুহিন মোল্লাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া আরও দুজন আসামি আদালতে হাজিরা দিতে গেলে জেলা জজ আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন। তবে মামলার অন্যান্য আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আলাউদ্দিন সরদার, সাবেক কাউন্সিলর ইয়াসমিন খানম, ইসমাইল এবং নিহতের মেয়ে মোসা. ফাহিমা বেগম। বক্তারা অবিলম্বে সকল পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় এনে ফাঁসির মুখোমুখি করার জোরালো দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঝালু মোল্লা পলাতক থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কালকিনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল আলম জানান, এই হত্যা মামলায় মোট ৮ জন এজাহারনামীয় আসামি রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুজন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।