লোডশেডিং ও ডিজেল সংকট: বিপাকে দেশের বোরো চাষিরা
অনলাইন ডেস্ক: চৈত্র-বৈশাখের তীব্র গরমের মাঝে একদিকে অসহনীয় লোডশেডিং, অন্যদিকে দেশজুড়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ডিজেল সংকট—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে দেশের কৃষি খাত এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ দিতে না পেরে ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো পানি না পাওয়ায় ধানের ফলন অর্ধেক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন প্রান্তিক কৃষকরা। এ নিয়ে ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে সারা দেশের চিত্র উঠে এসেছে।
বিপর্যস্ত কৃষি: জেলাভিত্তিক চিত্র
| জেলা | বর্তমান পরিস্থিতি | প্রধান সমস্যা |
| রাজশাহী | ৪৬টি পাম্পের মধ্যে মাত্র ৮-১০টিতে তেল মিলছে। কৃষকরা শ্যালো মেশিন মাথায় করে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। | চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন। |
| কক্সবাজার | জেলার প্রায় ৪,২০০ সেচ পাম্প অচল হয়ে পড়েছে। চকরিয়া উপজেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। | ডিজেল সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সেচ স্থবির। |
| বরিশাল | ৩ লাখ ৮৩ হাজার হেক্টর জমির বোরো আবাদ ঝুঁকিতে। ৮৭ হাজার পাম্পের সিংহভাগই ডিজেলচালিত। | দৈনিক ৫ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ নেই। |
| জামালপুর | পানির অভাবে জমির মাটি শুকিয়ে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ধানের চারা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। | কৃষি কার্ড নিয়েও মিলছে না তেল, ভোরে পাম্পে গিয়েও খালি হাতে ফিরছেন চাষি। |
| রংপুর | ১ লাখ ৩২ হাজার হেক্টর জমির আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তা। পাম্প থেকে ২-৩ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। | ডিজেল নির্ভর সেচ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ অচল। |
কেন এই সংকট?
পদ্মা অয়েল কোম্পানির তথ্যমতে, আগে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হতো, বর্তমানেও প্রায় কাছাকাছি সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু বোরো মৌসুমের কারণে চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। বিপিসি দৌলতপুর থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ দিতে না পারায় ডিলারদের এখন তিনগুণ ব্যয় করে সড়কপথে তেল আনতে হচ্ছে।
কৃষকদের হাহাকার
বর্তমানে ধান গাছে ফুল আসা ও দানা বাঁধার সময়, যা ফলনের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। কৃষকরা জানিয়েছেন, লিটার প্রতি ১৫-২০ টাকা বেশি দিয়েও খোলা বাজারে তেল মিলছে না। বিদ্যুৎচালিত পাম্পগুলো দিনে ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে চালানো যাচ্ছে না। কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নদীর পাড়ে জমি থাকলেও কেবল জ্বালানির অভাবে পাম্প সচল করা সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি বিভাগের বক্তব্য
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বোরো ক্ষেতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ নিশ্চিত করা না গেলে জাতীয় খাদ্য মজুতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য তারা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ রাখছেন।
জান্নাত/সকালবেলা
|