বন্যা কবলিত কক্সবাজার জেলায় ত্রাণের হাহাকার

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ণ
বন্যা কবলিত কক্সবাজার জেলায় ত্রাণের হাহাকার

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার : প্রবল বর্ষণ ও পাহা‌ড়ি ঢলে পানি আর দুর্ভোগে বিপর্যস্ত কক্সবাজার। বন্যায় জেলার লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কোথাও খাবারের তীব্র সংকট, কোথাও নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা বা আশ্রয়—সবমিলিয়ে চরম দুর্বিষহ সময় পার করছেন দুর্গতরা। যদিও প্রশাসনের দাবি, দুর্গতদের মাঝে ইতিমধ্যেই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ঘরবাড়ি, ক্ষেত-খামার, মৎস্যঘের, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে গেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। এতে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

চক্রিয়ার কাকারা এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল আমিন বলেন, “আমরা চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে আছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের কোনো উপায় নেই।” বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, গত দুই দিন ধরে পুরো বাড়ি কোমরসমান পানিতে তলিয়ে থাকায় রান্নাবান্না সম্পূর্ণ বন্ধ। এখন পর্যন্ত কোনো খাদ্যসহায়তা তারা পাননি।

পৌরসভার বাসিন্দা মঈন উদ্দিন বলেন, “শুকনো খাবারের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিকর খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ নলকূপ বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট এখন প্রকট।”

এদিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের রামুর কাঠির মাথা এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ডুবে গেছে আশপাশের গ্রামের পর গ্রাম। দুর্গতরা খাবারের সন্ধানে নৌকা ও ঠেলাগাড়িতে ছুটছেন। রামুর কাঠির মাথা এলাকার বাসিন্দা করিম সিকদার ও বসুন্ধরা এলাকার রশিদ আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৪-৫ দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য তাদের কাছে পৌঁছায়নি।

পেকুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আকতার নিলয় বলেন, “আশ্রয়কেন্দ্র ও পানিবন্দি এলাকায় শুকনো খাবার সরবরাহে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।”

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “উপজেলার আড়াই হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। তাদের জন্য ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসারদের মাধ্যমে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।”

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপির নেতাকর্মীরা বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য আমরা নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। স্থানীয় নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন