দাস-দাসীরা দিল্লিতে, বাংলাদেশে তাদের রাজত্ব নেই: অলি আহমদ

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ণ
দাস-দাসীরা দিল্লিতে, বাংলাদেশে তাদের রাজত্ব নেই: অলি আহমদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ভারতের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আপনাদের দাস-দাসীরা দিল্লিতে; বাংলাদেশে এখন আপনাদের দাসদের রাজত্ব নেই। আপনারা যদি বলেন রংপুর দখল করবেন, আমরাও বলব কলকাতা দখল করব। সেই আগের দিন শেষ, এখন নতুন জমানা শুরু।”

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে আজ শনিবার (১১ জুলাই) রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে উপস্থিত রংপুরবাসীর উদ্দেশে কর্নেল অলি বলেন, “আপনাদের বীর সন্তান শহীদ আবু সাঈদ অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে নতুন দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আমাদের যে বার্তা দিয়ে গেছেন, তা হলো—দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য প্রয়োজনে প্রাণ দিতে হবে, কিন্তু কোনো বিদেশি শক্তির তাঁবেদারি করে থাকা যাবে না।”

সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের বাংলাদেশ সফর ও বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এলডিপি প্রধান বলেন, “কয়েকদিন আগে ভারতীয় হাইকমিশনার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এসে সুন্দর কবিতা শোনালেন—একই আকাশ, একই বাতাস। আমাদের জন্য যদি আপনাদের এতই মায়া ও প্রীতি থাকে, তবে চারিদিকে কাঁটাতারের বেড়া কেন দিলেন? আমাদের সীমান্ত অভিমুখে কেন প্রত্যেকদিন পুশইন করা হচ্ছে? আমরা কেন ফারাক্কা ও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছি না?”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ যখন প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে সামরিক উড়োজাহাজ কেনে, তখন আপনাদের পেটে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। আপনারা যখন বড় বড় যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ কেনেন, আমরা তো কিছু বলি না। নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনে আমরা ট্যাঙ্ক কিনব নাকি আর্টিলারি কিনব, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমাদের।”

ভারতের নীতি নির্ধারকদের উদ্দেশে কর্নেল অলি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা আপনাদের দাস নই। আপনাদের প্রিয় দাসী তো আপনাদের কাছেই আশ্রয় নিয়েছে। যদি বাংলাদেশের সাথে প্রকৃত সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চান, তবে অবিলম্বে সীমান্ত থেকে কাঁটাতারের বেড়া উঠিয়ে নিন এবং পুশইন বন্ধ করুন। একই সাথে বাংলাদেশ নিয়ে যেকোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকুন।”

১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ এই বিভাগীয় সমাবেশে অংশ নেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন