ভিপি সোহেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক

ফ্যাসিস্ট আমলে রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের প্রভাব

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ণ
ভিপি সোহেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভিপি সোহেলকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. বিটু

অনলাইন ডেস্ক: বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে কারাবন্দী থাকা অবস্থায় রিমান্ডে পুলিশের অমানবিক ও পৈশাচিক শারীরিক নির্যাতনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (ভিপি সোহেল)। ওনার শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নিতে এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু।

গত ২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় হঠাৎ করে শারীরিক জটিলতা অত্যন্ত তীব্র ও আশঙ্কাজনক আকার ধারণ করলে ভিপি সোহেলকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে পিজি হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রবার্ট আহমেদ খান ও অধ্যাপক ডা. ধীমান চৌধুরীর যৌথ ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলছে। এর মাঝে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৬ জুলাই ওনার মেরুদণ্ডের একটি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর অস্ত্রোপচার (অপারেশন) সফলভাবে সম্পন্ন হয়। 

ভিপি সোহেলের পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে বিশেষ করে ২০১৪ সালে ওনাকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে ওনার পা এবং মেরুদণ্ডে মারাত্মকভাবে আঘাত ও বর্বরোচিত নির্যাতন করা হয়। সেই সময় প্রায় ১২ বছর আগে ওনার মেরুদণ্ডে একটি জরুরি অস্ত্রোপচারের ভীষণ প্রয়োজন ছিল। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতি, মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানার কারণে ওনার পক্ষে সেই চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। উল্টো কারাবন্দী থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম শিকার হতে হয় ওনাকে। রিমান্ডে নিয়ে তাঁর পা ও মেরুদণ্ড লক্ষ্য করে যে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল, মূলত তার ফলেই তাঁর মেরুদণ্ডে এই দীর্ঘস্থায়ী ও স্থায়ী জটিলতার সৃষ্টি হয়।

পারিবারিক সূত্রটি আরও জানায়, ওনাকে অমানবিক ও পৈশাচিক নির্যাতনের সময় তৎকালীন অতি-উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তারা অত্যন্ত হিংস্রভাবে ওনাকে লক্ষ্য করে বলেছিল, “যে ডোজ দিয়ে গেলাম, ২০ বছর পরেও আর সোজা হয়ে হাঁটতে পারবি না, চলতেও পারবি না; তখন আমাদের কথা আজীবন মনে পড়বে।”

সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এই ত্যাগী নেতা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দিনরাত এক করে জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা এবং নিয়মিত অত্যন্ত কঠোর সাংগঠনিক ও দাপ্তরিক কর্মব্যস্ততার মাঝে ওনার সেই পুরনো ও সুপ্ত শারীরিক সমস্যাটি নতুন করে অত্যন্ত প্রকট ও অসহনীয় আকার ধারণ করে। যার ফলেই ওনাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়।

হাসপালে পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু চিকিৎসাধীন প্রবীণ এই ছাত্রনেতার শয্যাপাশে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং ওনার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন। তিনি ওনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ওনার চিকিৎসার বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ওনার দ্রুত সুস্থতা কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসী ও কিশোরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিশেষভাবে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন