বিবাহবিচ্ছেদে বিপুল সম্পত্তির মালিক পুতুল

প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ণ
বিবাহবিচ্ছেদে বিপুল সম্পত্তির মালিক পুতুল

সকালবেলা অনলাইন: ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন। স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেনের সঙ্গে ২০২১ সালেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি আদালতে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সে সময় বিষয়টি গোপন থাকলেও, সম্প্রতি দুবাই আদালতের নথি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সম্পত্তির রেকর্ড থেকে এই বিচ্ছেদ ও সম্পত্তি হস্তান্তরের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

প্রাপ্ত আইনি নথি অনুযায়ী, বিচ্ছেদ চুক্তির শর্ত হিসেবে খন্দকার মাশরুর হোসেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি টাকা) দিয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে তাঁদের যৌথ মালিকানাধীন দুটি বিলাসবহুল বাড়ির সম্পূর্ণ মালিকানাও পুতুলের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাড়ি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে নগদ অর্থ ও ফ্ল্যাটের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

দুবাই আদালতের ফ্যামিলি গাইডেন্স অ্যান্ড রিফর্মেশন বিভাগে স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ফ্লোরিডার সেন্ট জনস কাউন্টির ফ্রুট কোভ এলাকার এবং মেইটল্যান্ডের দুটি বাড়ি ‘নেভা ইনকরপোরেটেড’ নামের একটি শেল কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানের একমাত্র আইনি মালিক ও সুবিধাভোগী সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিজেই। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, সেন্ট জনস কাউন্টির বাড়িটি ২০০৫ সালে ২ লাখ ৪৫ হাজার ডলারে যৌথ নামে কেনা হয়েছিল, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অন্যদিকে মেইটল্যান্ডের চার শয়নকক্ষবিশিষ্ট বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ ডলার।

চুক্তিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, বিয়ের সময় পাওয়া উপহার, ব্যক্তিগত আসবাবপত্র, পোশাক, অলঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান স্মারক পুতুলকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। পুতুলের নির্দেশিত স্থানে এগুলো পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় খরচ ও দায়িত্ব খন্দকার মাশরুরকে বহন করতে হবে।

পুতুল ও মাশরুর দম্পতির চার সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের চুক্তি অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই সন্তানের আইনগত অভিভাবক (গার্ডিয়ান) থাকবেন খন্দকার মাশরুর, তবে তারা কাস্টডি বা জিম্মায় থাকবেন মাউলি সায়মা ওয়াজেদের কাছে। সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের যাবতীয় ব্যয়ভার মাশরুর হোসেনকেই বহন করতে হবে।

খন্দকার মাশরুর হোসেন হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে। ১৯৯৫ সালে পুতুল ও মাশরুরের বিয়ে হয়, তখন শেখ হাসিনা ছিলেন বিরোধীদলীয় নেত্রী। দুজনই সে সময় কানাডার নাগরিক ছিলেন।

এই পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরেই খন্দকার মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ২০০৯ সালে তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার (এলজিআরডি) মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তবে নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে পুতুল ও মাশরুরের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হলে একই সময়ে খন্দকার মোশাররফের রাজনৈতিক প্রভাবও কমতে থাকে। তিনি মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন। ২০২১ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর মোশাররফের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দখলবাজির অভিযোগে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। তাঁর ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর খন্দকার মোশাররফ দেশ ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে পাড়ি জমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়ে ভারতের দিল্লিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আপত্তির মুখে তিনি অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কানাডার পাসপোর্ট ব্যবহার করে দুবাই ও দিল্লিতে যাতায়াত করছেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন