শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গকে নরকে পরিণত করেছে: ফয়জুল করীম
স্টাফ রিপোর্টার: শুধুমাত্র ফ্যাসিবাদ তাড়ানোর জন্য দেশে জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি, বরং দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রকারীদের উৎখাত করতেই এই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, “জনগণ শান্তিতে বসবাস করার এবং দেশরক্ষার তাগিদে জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।”
তিনি অনতিবিলম্বে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। এমনকি নির্বাচনের আগে বিএনপিও ক্ষমতায় গেলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বাদ জুমা ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে’ এক গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি ফয়জুল করীম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যারা আমাদের প্রিয় দেশকে দখল ও ভাগ করে গ্রাস করতে চায়, তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখের ভুল বলে পাশ কেটে যাচ্ছেন। নতুনভাবে দেশে জঙ্গি নাটক সৃষ্টি করে ইসলামপন্থি, আলেম-ওলামা ও মাদরাসাকে ধ্বংসের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জঙ্গি পরিস্থিতি বাংলাদেশের সংস্কৃতি নয়, এটি ভারতের সংস্কৃতি। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এই জঙ্গি জঙ্গি খেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”
তিনি ভারতের মুসলিম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী আসার পর পশ্চিমবঙ্গকে নরকে পরিণত করা হয়েছে। সেখানে মুসলমানদের বাড়ি-ঘর, দোকানপাট, মসজিদ ও মাদরাসাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুসলিম নারীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। জোরপূর্বক মুসলমানদের ‘শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং মুসলিম মেয়েদের সিঁদুর পরানো হচ্ছে।” তিনি ভারতের যেকোনো ধরনের বৈরী ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় দেশবাসীকে সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশকে আমরা অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি, তাই জীবন ও রক্ত দিয়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো।” তবে একই সাথে ধর্মকে হাতিয়ার করে কোনো ধরনের সহিংসতা চালানো কাম্য নয় বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, সহকারী মহাসচিব কেএম আতিকুর রহমান, আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, হাফেজ মওলানা জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে একটি বিশাল গণমিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন মোড় ও বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কি সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টন মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। শুক্রবারের প্রচণ্ড বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী এই মিছিলে অংশ নেন।
এআইএল/সকালবেলা
|