পারমাণবিক শক্তি আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিল উত্তর কোরিয়া

প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ণ
পারমাণবিক শক্তি আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিল উত্তর কোরিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ আন্তর্জাতিক মহলের সমস্ত বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের পারমাণবিক শক্তি ‘গুণগত ও পরিমাণগত—উভয় দিক থেকেই’ আরও শক্তিশালী ও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ কোরিয়াকেন্দ্রিক সামরিক নজরদারি বাড়াতে তাদের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা, পরিধি ও দায়িত্বও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে।

আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নিজস্ব পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের ব্যাপক আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ১৯৫০-৫৩ সালের ঐতিহাসিক কোরীয় যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি ছাড়াই কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের পক্ষ থেকে দুই দেশের বরফ গলাতে নেওয়া একাধিক সমঝোতামূলক ও দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করার পরই পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধংদেহী ঘোষণা এলো। পিয়ংইয়ং ইতিমধ্যেই সিউলকে তাদের ‘সবচেয়ে বৈরী ও শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিহিত করেছে এবং নিজেকে একটি ‘অপরিবর্তনীয়’ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে সংবিধানেও ঘোষণা করেছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, গত বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের এক বর্ধিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

কেসিএনএর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ‘গুণগত ও পরিমাণগত—উভয় দিক থেকেই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ শক্তি সর্বোচ্চ জোরদার’ করার মতো একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া সংক্রান্ত বিশেষ সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান ও শক্তিশালী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘জেনারেল রিকনেসান্স অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো’র সামগ্রিক কার্যক্রম, বাজেট ও সাংগঠনিক কাঠামো ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণেরও জোর আহ্বান জানানো হয়। কেসিএনএ জানায়, সম্ভাব্য শত্রুর যেকোনো ধরনের হুমকি বা আক্রমণ আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সিউলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য সংগ্রহে এই গোয়েন্দা সংস্থাটি সবসময় ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করে থাকে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামরিক কমিশনের ওই বৈঠকে সংস্থাটির ‘আধুনিক সামরিক নজরদারি, সাইবার আক্রমণ ও নিখুঁত গোয়েন্দা তৎপরতার সক্ষমতা রাতারাতি বৃদ্ধি’ করার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহের উপায় নিয়েও বিশদ আলোচনা ও কর্মপরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার এই নতুন ও আগ্রাসী সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সিউলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন’–এর জ্যেষ্ঠ গবেষক হং মিন বলেন, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক এই সামরিক পদক্ষেপ ও ঘোষণা থেকে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, পিয়ংইয়ং এখন দুই কোরিয়াকে আর কোনো অংশীদার বা আলোচনার পক্ষ ভাবছে না, বরং সম্পূর্ণ ‘দু’টি পৃথক বৈরী রাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচনা করছে। এর ফলে পূর্ব এশিয়ার দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি ভিত্তিক আগের চেনা ভূ-রাজনৈতিক কাঠামো চিরতরে পরিবর্তিত হয়ে এক বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মন্তব্য করুন