বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ সংকটের শঙ্কা, জাতিসংঘের সংস্থার সতর্কবার্তা
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে বিশ্ববাজার যখন কেবল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত পুনরায় শুরু হলো। এর ফলে জ্বালানি বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হওয়ার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভেস্তে যেতে পারে।
আইইএ তাদের সর্বশেষ মাসিক তেলের বাজার (অয়েল মার্কেট) প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় তেল উৎপাদন ও রপ্তানি প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাবে বৈশ্বিক করোনা মহামারির বছর ২০২০ সালের পর প্রথমবারের মতো চলতি ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী তেলের সামগ্রিক চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমার পথে রয়েছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও সামরিক পদক্ষেপ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় আরও ভয়াবহ এবং নিয়ন্ত্রণহীন আকার ধারণ করতে পারে।
আইইএ তাদের তথ্যচিত্রে জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ রাতারাতি কমে গেছে। জ্বালানির এই নজিরবিহীন ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ইতিমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দুই দেশের মাঝে পূর্বের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং হরমুজ প্রণালিটি পুনরায় সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার পর গত জুন মাসে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে এই ইতিবাচক সরবরাহও যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দৈনিক ৯৪ লাখ ব্যারেল কম ছিল।
আইইএ-এর ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস ও গাণিতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে যদি দ্রুত স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখা সম্ভব হয়, তবে আগামী ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে দৈনিক ৪৬ দশমিক ২ লাখ ব্যারেল উদ্বৃত্ত থাকবে। অন্যথায়, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে বর্তমান ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে দৈনিক ৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেলের তীব্র ঘাটতি বজায় থাকবে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
|