গজারিয়ায় কর্মচারীকে জিম্মি করে মালামাল লুট

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় কর্মচারীকে জিম্মি করে মালামাল লুট

মোঃ দুলাল সরকার, গজারিয়া প্রতিনিধি: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়েছে ডাকাত দল। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অন্তত ২০ লাখ টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও মালামাল ট্রাকে করে লুটে নেওয়া হয়।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকায় ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। ব্যস্ততম মহাসড়কের পাশে এত দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে সিসিটিভি ক্যামেরা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে।

জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে ঊষা এগ্রো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জায়গাটি ভাড়া নেয় দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স। তারা এখানে পাইলিং ও কনস্ট্রাকশনের বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি এনে রাখত। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তারক্ষী রিপন মিয়া বলেন, "সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে গেটের তালা খোলা ছিল। হঠাৎ কালো মাস্ক পরা ৪ জন যুবক ভেতরে ঢুকেই অস্ত্রের মুখে আমাকে জিম্মি করে ফেলে। তাদের দুজনের হাতে পিস্তল এবং একজনের হাতে ধারালো ছুরি ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা বাকি তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ মোট আটজনকে হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে আটকে রাখে।"

ডাকাতি চলাকালীন রাত ৮টার দিকে স্টোরের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ফরজাদুর রেজা সেখানে পৌঁছালে তিনিও ডাকাতদের কবলে পড়েন। তিনি বলেন, "ভেতরে পা দেওয়া মাত্রই ১০-১২ জন লোক আমাকে ঝাপটে ধরে বেঁধে ফেলে। রাত ১টা পর্যন্ত ডাকাতরা ভেতরে অবস্থান করে মালামাল লুটপাট করে এবং দুটি ট্রাকে করে তা নিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে ডাকাত দল চলে গেলে আমরা বন্দিদশা থেকে মুক্ত হই। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর '৯৯৯'-এ কল দিলে গজারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।"

আজ শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাহাদাত হোসেন দুলাল। তিনি বলেন, "লুট হওয়া মালামাল ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করার কাজ চলছে। এটি শেষ করেই আমরা থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।"

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, "৯৯৯ থেকে খবর পাওয়ার পর গত রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুরো বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন