ইসরায়েলি সেটলারদের হাতে আটক মার্কিন আইনপ্রণেতা রো খান্না

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলি সেটলারদের হাতে  আটক মার্কিন আইনপ্রণেতা রো খান্না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান রো খান্না দাবি করেছেন, পশ্চিম তীর সফরের সময় মার্কিন তৈরি এম-৪ রাইফেলধারী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা (সেটলার) তাকে ও তার সফরসঙ্গীদের এক ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখেছিল। ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন এমন সময়ে তিনি এ ঘটনাকে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের মানবিক প্রভাবের একটি বাস্তব চিত্র বলে উল্লেখ করেছেন।

বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যালিফোর্নিয়ার এই কংগ্রেসম্যান বলেন, আগের দিন তারা দক্ষিণ পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রাম পরিদর্শনে গেলে তাদের বহনকারী ভ্যান ঘিরে ফেলে সশস্ত্র সেটলাররা।

খান্না বলেন,
“আমরা এমন একটি গ্রামে গিয়েছিলাম, যেটি ইসরায়েলি সেটলাররা ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা স্কুল ধ্বংস করেছে, পুরো গ্রাম ধ্বংস করেছে। আমরা শুধু সেই পরিস্থিতি দেখছিলাম।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর এম-৪ রাইফেলধারী কয়েকজন সেটলার তাদের পথরোধ করে এবং সেখানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পৌঁছালে তারা সেটলারদের পক্ষ নেয়।

তিনি বলেন,
“তারা রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং আইডিএফকে ডাকে। কিন্তু আইডিএফ আমেরিকানদের নয়, বরং সেটলারদের পক্ষ নেয়।”

খান্নার সফরসঙ্গী ও সহকারী ক্যামেরন কাসকি জানান, তারা এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে ছিলেন এবং সাহায্যের জন্য জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ সদস্যদের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে হস্তক্ষেপ করলে তারা সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বক্তব্য

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, পশ্চিম তীরের খিরবেত জানুতা এলাকার কাছে সেটলাররা কয়েকটি যানবাহনের পথ আটকে রেখেছে—এমন খবর পেয়ে সেনা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

বাহিনীর দাবি, সেখানে পৌঁছে তারা ইসরায়েলি বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে দেয় এবং আটকে থাকা যানবাহনগুলোকে চলাচলের সুযোগ করে দেয়।

তবে এ ঘটনায় ইসরায়েলি পুলিশ ও জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইসরায়েল ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তি

রো খান্না চলতি সপ্তাহে অঞ্চলটি সফরকারী দ্বিতীয় ডেমোক্র্যাট নেতা, যিনি ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চিফ অব স্টাফ রাহম ইমানুয়েল তেল আবিব সফরে গিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের প্রতি সমর্থন কমছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে খান্না বলেন,
“আমি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি। এই সফরের পর সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আমি আরও দৃঢ় হয়েছি।”

তিনি বলেন, ফিলিস্তিন, গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি এখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

খান্নার ভাষায়,
“আপনি যদি ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার, গাজায় কথিত গণহত্যা কিংবা পশ্চিম তীরে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে না চান, তাহলে আপনি নৈতিকভাবে আপস করেছেন।”

ইসরায়েলের অবস্থান

ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এবং পশ্চিম তীরে বর্ণবৈষম্যমূলক (অ্যাপারথাইড) শাসন প্রতিষ্ঠার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি এবং প্রায় পাঁচ লাখ ইহুদি বসতিস্থাপনকারী বসবাস করছেন।

জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে মনে করে। তবে ইসরায়েলের দাবি, পশ্চিম তীর একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড, যেখানে হাজার বছরের ইহুদি উপস্থিতি রয়েছে।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা ও পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।

মন্তব্য করুন