চলতি বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩৬০ শিক্ষার্থীর

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ণ
চলতি বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩৬০ শিক্ষার্থীর

অনলাইন ডেস্ক  :  চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—এই প্রথম ছয় মাসে দেশে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং আরও ১০৯ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সঠিকভাবে সচেতন করা গেলে যেমন দেশের জন্য একটি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য গড়ে উঠবে একটি সুশৃঙ্খল জাতি।”

আজ শনিবার (১১ জুলাই) ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ‘মিরসরাই ট্র্যাজেডি’র ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এ উদ্বেগজনক তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় মেগা ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচির চরম অভাব রয়েছে। ফলে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী অকালে প্রাণ হারাচ্ছে এবং অনেকেই মারাত্মক আহত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শুধু দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন।

স্মরণকালের ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, ২০১১ সালের আজকের এই দিনে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক চালকের অসাবধানতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হন। এটি ছিল দেশের ইতিহাসে একক সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ওই মর্মস্পর্শী দুর্ঘটনার পরও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে দেশব্যাপী কোনো কার্যকর ও নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা তৈরি হয়নি এবং প্রতিবছরই সড়কে লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।

৬ মাসের মাসওয়ারি দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান:

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন। মার্চে ৫৯টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ১ জন আহত হন। এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনায় ৫৬ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হন। মে মাসে সবচেয়ে বেশি ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হন এবং সদ্য সমাপ্ত জুনে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির ৫ দফা সুপারিশ:

সড়কে শিক্ষার্থীদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পাঁচ দফা জরুরি সুপারিশ তুলে ধরেছে। সুপারিশগুলো হলো—

১. জাতীয় শিক্ষাক্রমের পাঠ্যবইয়ে প্রাথমিক স্তর থেকেই সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা ও নিয়মাবলি বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা। ২. প্রতি মাসে অন্তত একবার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা। ৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের সব গুরুত্বপূর্ণ পারাপারস্থল, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনের অংশে দৃশ্যমান জেব্রা ক্রসিং আঁকা এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা। ৪. মহাসড়কসংলগ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জরুরি ভিত্তিতে 'রোড সেফটি গার্ড' নিয়োগের মাধ্যমে লাল পতাকা ব্যবহার করে দ্রুতগতির যানবাহন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা। ৫. দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি সক্রিয় ‘সড়ক নিরাপত্তা কমিটি’ গঠন করা।

মন্তব্য করুন