প্রত্যেক মানুষের জন্মের পর একটি গাছ লাগানো উচিত: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ণ
প্রত্যেক মানুষের জন্মের পর একটি গাছ লাগানো উচিত: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক ঃ গাছ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ রোপণের এক মহাপরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ বা জন্মের পর প্রত্যেক মানুষের নামেই অন্তত একটি করে গাছ লাগানো উচিত।’

আজ শনিবার (১১ জুলাই) বাগেরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত বিশেষ বৃক্ষরোপণ অভিযান ও ৭ দিনব্যাপী আঞ্চলিক বৃক্ষমেলার গ্র্যান্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা শুধু একা কোনো সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের একটি পরম নৈতিক দায়িত্ব। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে বাঁচতে গ্রামীণ ও শহরের সড়কের পাশে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং নিজেদের বাড়ির ফাঁকা আঙিনায় বেশি বেশি করে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ লাগিয়ে আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”

বর্তমানে দেশের বর্জ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা যেন যত্রতত্র ময়লা ফেলে পুরো দেশকে একটা ডাস্টবিনে পরিণত না করি। একটি সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনভাবে কাজ করতে হবে।”

বিশেষ করে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি পরিবার এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই মূলত পরিবেশ সংরক্ষণের ব্যবহারিক শিক্ষা শুরু হওয়া উচিত। শিশুদের মনে গাছ লাগানোর এবং গাছের যত্ন নেওয়ার সুঅভ্যাস ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে হবে।”

এর আগে সকালে জেলা শহরের এক বর্ণাঢ্য ও বৃহৎ শোভাযাত্রায় সশরীরে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। পুরো শহর প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি জেলা পরিষদ চত্বরে এসে মেলার মূল মঞ্চে মিলিত হয়। পরে তিনি আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং ফিতা কেটে মেলা প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করেন এবং বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—জেলার পুলিশ সুপার হাছান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জয়দেব চক্রবর্তী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম, সদস্যসচিব মোজাফফর রহমান আলম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী কর্মী, সাংবাদিক ও সুধীজন।

সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ ১১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই বৃক্ষমেলা আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত টানা ৭ দিন চলবে। মেলা প্রাঙ্গণ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যেখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিরল ও দরকারি প্রজাতির চারা প্রদর্শন ও সুলভ মূল্যে বিক্রয় করা হবে।

মন্তব্য করুন