ফেসবুক পোস্টে মিলল পরিচয়, ৪ দিন পর প্রতিবন্ধী তরুণের মরদেহ হস্তান্তর
মো. শরীফ উদ্দিন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর পরিত্যক্ত ডোবা থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক তরুণের লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহত যুবকের নাম হাবিবুর রহমান (১৮)। তিনি জন্মগতভাবে শারীরিক, মানসিক ও বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন।
গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নাসিরনগর থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে হাবিবুর রহমানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের জেঠাগ্রাম চটিপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবায় অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মরদেহটি দীর্ঘ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকায় আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) নষ্ট হয়ে যায়। ফলে পুলিশি প্রযুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করতে মানবিক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর ফেসবুক পেজে লাশের ছবি ও বিশদ বিবরণ দিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই পোস্টটি দ্রুত নজরে আসে নিখোঁজ হাবিবুর রহমানের স্বজনদের। সেখানে মরদেহের গায়ে থাকা কালো ও সাদা রঙের ডোরাকাটা শার্ট দেখে নিশ্চিত হয়ে হাসপাতালে ছুটে যান পরিবারের সদস্যরা এবং মরদেহটি হাবিবের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৫ আগস্ট সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর হাবিব আর ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের ধারণা, ওই দিন রাতে একটি ধর্মীয় মাহফিল ও মিলাদ শেষে বাড়ি ফেরার পথে অন্ধকারের মধ্যে অসাবধানতাবশত পা পিছলে গভীর ডোবার পানিতে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত হাবিবের চাচা আব্দুল জলিল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, ফেসবুকে অজ্ঞাত মরদেহের ছবি ও পরনের জামা দেখেই তাঁরা হাবিবকে চিনতে পেরেছেন। চার দিন পর হলেও নিখোঁজ স্বজনের মরদেহ শেষবারের মতো ফিরে পেয়ে যথাযথ মর্যাদায় দাফন করতে পারায় তাঁরা পুলিশ প্রশাসন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম জানান, অজ্ঞাত তরুণের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ তৎপর ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের সূত্র ধরে পরিবার মরদেহ শনাক্ত করে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু রয়েছে।