নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কে ধস, জনগণের ভোগান্তি

প্রকাশ: শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ণ
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কে ধস, জনগণের ভোগান্তি

পিএম সাজ্জাদ শরীফ, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলায় সড়ক নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় ২০০ মিটার সড়ক চালিতাবুনিয়া খালে ধসে পড়েছে। এতে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ।

শুক্রবার আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের কালীবাড়ী এলাকায় প্রথম ধসের ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার সকালে কালীবাড়ী ও পাতাকাটা এলাকার আরও বেশ কিছু অংশ খালগ্রাসে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করা এবং ব্যাপক অনিয়মের কারণেই হস্তান্তর হওয়ার আগেই সড়কটি ধসে পড়েছে।

জানা গেছে, আমতলী-গাজীপুর ১৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কের আমতলী কালীবাড়ী থেকে তালুকদার বাজার পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা এলজিইডি। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই কাজের সাব-কন্ট্রাক্ট নেন আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করা হলেও এতে চরম অনিয়ম করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলীকে বারবার অবহিত করা হলেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

সড়ক ধসে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন বলেন, “সড়ক খালে ধসে পড়েছে। আপনারা যা পারেন লিখে দেন। দেখি তাতে কী হয়।”

আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেহেদী জামান রাকিব অভিযোগ করে বলেন, "ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় প্রায় দুই শ মিটার সড়ক খালে ধসে গেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বারবার জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।"

শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বরগুনা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন বলেন, "ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সড়ক ধসে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। এখানে ঠিকাদারের কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তাও কঠোরভাবে তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে।"

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী জানান, সড়ক ধসের পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা উদঘাটনে বিশেষজ্ঞ টিম পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন