গোপালগঞ্জে টাকার বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিকে টিসিবির ডিলার পুনঃনিয়োগ
পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস (গোপালগঞ্জ): গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ফারুক শরীফ নামের এক অযোগ্য ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে টিসিবি'র ডিলার হিসেবে পুনঃনবায়ন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নবায়ন পাওয়া ওই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স ফারুক ট্রেডার্স। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফারুক শরীফ ২০২১-২২ অর্থ বছরে সর্বপ্রথম বানোয়াট কাগজপত্র তৈরি ও মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে টিসিবি'র ডিলার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। বর্তমানেও তিনি পুনঃনবায়নের ক্ষেত্রে একই ধরনের বানোয়াট কাগজপত্র তৈরি ও মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে সরকারি দপ্তরকে ফাঁকি দিয়েছেন।
গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই ফারুক ট্রেডার্সের অবৈধ পুনঃনবায়ন দেওয়ার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলাসহ জেলার সকল টিসিবি'র ডিলারগণ লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
সদ্য সাবেক ডিলার দীপক কুমার সাহা ও সোহেল মিয়াসহ সদর উপজেলার অধিকাংশ টিসিবি'র ডিলার সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সকল ধরনের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় ২০ হাজার করে টাকা উৎকোচ নিয়েছেন টিসিবি মাদারীপুর অফিসের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেছিলেন আপনাদের গোডাউন, রানিং দোকান ও কাগজপত্র সবই ঠিক আছে, আপনারাই পুনঃনবায়নের যোগ্য। একপর্যায়ে জানতে পারলাম আমাদের প্রতিষ্ঠানকে পুনঃনবায়ন দেওয়া হচ্ছে না। পরে গোপন সূত্রের মাধ্যমে জেনেছি ফারুক ট্রেডার্স ও রিমি এন্টারপ্রাইজকে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুনঃনবায়ন করে দিয়েছেন। তাঁরা জানান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে পুনঃনবায়ন দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে রিমি এন্টারপ্রাইজের যথাযথ যোগ্যতা থাকলেও মেসার্স ফারুক ট্রেডার্সের কোনো যোগ্যতা ও বৈধতা নেই।
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে পুনঃনবায়ন পাওয়া ডিলার ফারুক শরীফ ও টিসিবি মাদারীপুরের সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামানের দাবি, অভিযোগগুলো বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাজারের যে ঠিকানায় ফারুক শরীফ টিসিবি'র লাইসেন্স নিয়েছেন সেখানে তাঁর কোনো দোকান ও গোডাউন ছিল না এবং বর্তমানেও নেই। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে নতুন লাইসেন্স নেওয়ার সময় তিনি তৎকালীন সরকারি দলের নেতাদের প্রভাব ও টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের ম্যানেজ করে দৃশ্যমান দোকান ও গোডাউন না থাকার পরেও টিসিবি'র লাইসেন্স পেয়েছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কৌশিক আহাম্মেদ বলেন, টিসিবি'র লাইসেন্স পুনঃনবায়নের বিষয়ে আমাদের কোনো হাত নেই। তার পরেও আমি জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলব। কোনো প্রকার অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে জেলা প্রশাসক স্যারের সহযোগিতায় টিসিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধান করার চেষ্টা করব।
এআইএল/সকালবেলা