বাংলাদেশ সিরিজ চ্যালেঞ্জিং হবে : অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক
আজ সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৪টা ৩৯ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘খেলার মাঠ, জাতীয় ক্রিকেট দল ট্র্যাকিং ও সিরিজ প্রিভিউ’ এবং ‘আন্তর্জাতিক অলরাউন্ডার সমীকরণ, টিম কম্বিনেশন ও পিচ কন্ডিশন ফাতোদা উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য ও রণকৌশল বিস্তারিত তুলে করা হলো।
নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শের অনুপস্থিতিতে এই সফরে অজিদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার জস ইংলিস। বাংলাদেশের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ইংলিস বলেন, “আসলে বাংলাদেশের সাথে তাদের ঘরের মাঠে খেলাটা সব সময়ই মারাত্মক চ্যালেঞ্জিং। তাদের বর্তমান স্কোয়াডে বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের অলরাউন্ডার রয়েছে, যা যেকোনো দলের জন্য মাথাব্যথার কারণ। নিজেদের হোম কন্ডিশনে তারা অবশ্যই অনেক বড় এবং ভারসাম্যপূর্ণ দল। অতীতে বিশ্বের অনেক বড় বড় দল এখানে এসে কন্ডিশনের কারণে কঠিন চাপে পড়েছে। তবে আমরা মানসিকভাবে নিজেদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখছি। আশা করছি দুই দলের মধ্যে বেশ ভালো ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি সিরিজ হবে।”
মিরপুরের প্রথাগত মন্থর ও স্পিন ট্র্যাকের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের উইকেটের আচরণও নজরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া দল। মিরপুরের উইকেট প্রসঙ্গে অজি অধিনায়ক বলেন, “আমরা এখানে বাংলাদেশের খেলা গত নিউজিল্যান্ড সিরিজের ম্যাচগুলো বিশ্লেষণ করেছি। সেখানে উইকেটে বেশ ভালো ঘাস ছিল এবং নতুন বল হাতে বোলাররা দারুণ সুবিধা পাচ্ছিল। উইকেট কিছুটা সিম ফ্রেন্ডলি বা পেস সহায়ক ছিল, যা আমাদের মাথায় রয়েছে। সেসব কন্ডিশন ও ট্যাকটিকস মাথায় নিয়েই আমরা নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত আছি। উইকেটের ওপর হালকা নজর বুলিয়েছি, আজ অনুশীলনের সময় পিচটি আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করব।”
এই স্কোয়াডে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং লাইনে অন্যতম বড় ট্রাম্প কার্ড ভাবা হচ্ছে নাথান এলিসকে। অধিনায়কের কণ্ঠেও ঝরে পড়ল এই পেসারকে নিয়ে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। ইংলিস জানান, “নাথান এলিস আমাদের সীমিত ওভারের ক্রিকেট দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন প্লেয়ার। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সে অনেক দায়িত্ব নিয়ে পরিপক্ব ক্রিকেট খেলেছে। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে তাকে যখন যে ভূমিকা বা রেসপন্সিবিলিটি দেওয়া হয়েছে, সে প্রতিবারই নিজেকে প্রমাণ করেছে। তার বোলিংয়ে অসাধারণ গতি ও বৈচিত্র্য (Variations) রয়েছে। সে একজন অত্যন্ত স্কিলফুল বোলার, যে ম্যাচের শুরুতে, মিডল ওভারে এবং ডেথ ওভারে—তিন স্তরেই সমান কার্যকারিতার সাথে বল করতে পারে। আমরা আশা করছি এই সিরিজেও সে নিজের সেরাটা দিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে।”
অস্ট্রেলিয়া বা বাংলাদেশ সাধারণত দ্বিপক্ষীয় সিরিজে খুব বেশি মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে এক যুগেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের মাটিতে এমন একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নিয়ে সফরকারী দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে দারুণ রোমাঞ্চ কাজ করছে। ইংলিসের মতে, এই সিরিজটি অত্যন্ত এক্সাইটিং হতে যাচ্ছে এবং কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়ে মাঠে সেরা ক্রিকেট উপহার দিতে অজি ক্রিকেটাররা মুখিয়ে আছেন।