আজ বিসিবি নির্বাচন; ভোট পরীক্ষায় তামিম ইকবাল
ক্রীড়া প্রতিবেদক : দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে চলা নানামুখী অস্থিরতা, আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক ডামাডোলের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) পরিচালনা পর্ষদের বহুল প্রতীক্ষিত চূড়ান্ত নির্বাচন। বিগত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের মেয়াদের নির্বাচনকে ঘিরে যে গুরুতর বিতর্ক ও সরকারি প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছিল, তার ক্ষত ঢাকতেই যেন এবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়কে এক বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও দেশসেরা সাবেক ওপেনার তামিম ইকবালের (Tamim Iqbal) জন্য আজ এক বড় ভোট পরীক্ষা।
আজ রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘খেলাধুলা ও ক্রিকেট বিশ্ব’ এবং ‘বিসিবি নির্বাচন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ক্রীড়া প্রশাসন ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট পর্যবেক্ষণ উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে বিসিবি নির্বাচনের সমীকরণ ও ভোটযুদ্ধের আদ্যোপান্ত বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
বিসিবি নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টা থেকে মিরপুর স্টেডিয়ামের বোর্ডরুমে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এরপর ভোট গণনা শেষে আজ সন্ধ্যা ৬টায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী পরিচালকদের নাম ও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এবারের নির্বাচনে মোট ২৫ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এই ২৫ জন পরিচালক চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই আজ রাতে নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই সভায় নির্বাচন কমিশনের উপস্থিতিতে পরিচালকদের নিজেদের ভেতরের ভোটে একজন নতুন পূর্ণাঙ্গ সভাপতি (President) এবং দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত করা হবে।
এবারের বিসিবি নির্বাচনের মূল আলো কেড়ে নিচ্ছে ক্যাটাগরি-২ অর্থাৎ ঢাকাভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ক্যাটাগরি। এই ক্যাটাগরিতে ১২টি পরিচালক পদের বিপরীতে হেভিওয়েট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের মতে, অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালের নেতৃত্বে পর্দার আড়ালে যে একটি ‘অদৃশ্য শক্তিশালী প্যানেল’ রয়েছে, তাদের সবারই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এই ক্যাটাগরিতে ফে ফেভারিট হিসেবে আলোচনায় আছেন তামিম ইকবাল, ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, মাসুদুজ্জামান, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, আসিফ রাব্বানী এবং শানিয়ান তানিন।
নির্বাচনী সমীকরণ অনুযায়ী, ঢাকার ক্লাবগুলোর মোট ৭৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৩৯ জন ইতিমধ্যে গত ১ জুন ই-ভোট (E-Vote) বা অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ফেলেছেন। বাকি ৩৭ জন কাউন্সিলর আজ কেন্দ্রে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভোট দেবেন। অভ্যন্তরীণ গুঞ্জন রয়েছে, বড় বড় ক্লাবগুলোর মধ্যে গোপনে যে সমীকরণ বা মিলমিশ হয়েছে, সেই অনুযায়ী ৩৯টি ই-ভোট যে প্যানেলের বক্সে পড়েছে, তাদের বোর্ড গঠন করা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
অন্যদিকে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ক্যাটাগরি-১ থেকে মোট ১০ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। তবে এই ১০টি আসনের মধ্যে ৭টি আসনেই প্রার্থীরা ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন—চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও মঈনউদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা বিভাগ থেকে সাঈদ বিন জামান ও এস এম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, সিলেট বিভাগ থেকে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাজশাহী বিভাগ থেকে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং রংপুর বিভাগ থেকে মির্জা ফয়সল আমীন। এ ছাড়া ক্যাটাগরি-৩ (বিশ্ববিদ্যালয় ও সার্ভিসেস) থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।
ফলে আজ মূলত ভোটযুদ্ধ হচ্ছে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বাকি ৩টি পরিচালক পদের জন্য। খুলনার ২টি পরিচালক পদের জন্য ত্রিমুখী লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন মো. শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম ও মো. আব্দুছ ছালাম। আর বরিশাল বিভাগের ১টি মাত্র পদের জন্য মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে লড়ছেন ভোলা জেলা যুবদলের নেতা মো. মুনতাসির আলম চৌধুরী। ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, গত নির্বাচনের মতো এবারও বিভাগীয় এবং ক্লাব উভয় ক্যাটাগরিতেই এমপি-মন্ত্রী ও রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের কোটা এবং প্রাধান্য বেশ স্পষ্ট, যা নিয়ে ক্রিকেট মহলে মৃদু সমালোচনাও রয়েছে। তবে তামিম ইকবালের দেওয়া ‘ক্রিকেটের স্বার্থে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয় মাঠের বাইরে রাখার’ স্লোগান কতটুকু সফল হয়, তা আজ রাতেই স্পষ্ট হবে।
জান্নাত সকালবেলা