অপ্টার চোখে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সেরা একাদশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের মহোৎসব ও রোমাঞ্চকর ৭২টি ম্যাচ ইতিমধ্যেই সফলভাবে শেষ হয়েছে। বিশ্বমঞ্চে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নকআউট পর্বের শেষ ৩২-এর ভাগ্যনির্ধারণী লড়াই। গ্রুপ পর্বের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে মাঠের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করেছেন একঝাঁক চেনা ও অচেনা তারকা। গ্রুপ পর্বের এই জমজমাট লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, অবদান ও নিখুঁত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ বেছে নিয়েছে ক্রীড়া জগতের বিখ্যাত ডেটা অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্ম ‘অপ্টা অ্যানালিস্ট’। একাদশে যেমন স্থান পেয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকারা, তেমনি জায়গা করে নিয়েছেন মাঠ কাঁপানো বেশ কয়েকজন তরুণ ও চমক জাগানো ফুটবলার।
গ্রুপ পর্বে স্পেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলকিপার ভোজিনিয়া ছিলেন অনন্য। উরুগুয়ের বিপক্ষে দুটি গোল হজম করলেও তিনি ছিলেন দলের মূল ভরসা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষেও বুক চিতিয়ে লড়েছেন তিনি। স্পেনের উনাই সিমন ছাড়া অন্য কোনো গোলকিপার ভোজিনিয়ার চেয়ে বেশি ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ রাখতে পারেননি।
রক্ষণভাগে রাইটব্যাক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন ঘানার মারভিন সেনায়া। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর রক্ষণাত্মক রূপ ছিল চোখধাঁধানো। গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি ১৮টি ট্যাকল ও ২৪টি ডুয়েল জিতেছেন তিনি। সেন্টারব্যাক পজিশনে কেপ ভার্দের রূপকথার গল্পের নায়ক দিনেই বোর্হেসের সঙ্গে আছেন স্পেনের মাত্র ১৯ বছর বয়সী তরুণ সেনসেশন পাউ কুবারসি। পজিশন নিয়ে বল কেড়ে নেওয়া এবং নিখুঁত পাসিংয়ে কুবারসির ২৯৪টি পাসের মধ্যে মাত্র ৫টি মিস হয়েছে। আর লেফটব্যাক হিসেবে গতি ও ক্ষিপ্রতায় জাপানের বাঁ প্রান্ত মাতানো কেইতো নাকামুরা একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন, যিনি আক্রমণে সরাসরি ৯ বার যুক্ত ছিলেন।
মিডফিল্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণে বাড়তি ধার আনা ক্ষিপ্রগতির মিডফিল্ডার ওয়েস্টন ম্যাকেনি ওপেন প্লেতে মিডফিল্ডারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭টি গোলের সুযোগ তৈরি করে একাদশে জায়গা পেয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন ইকুয়েডরের অবিনাশী শক্তি ও মেক্সিকান ক্লাব পুমাসের তারকা পেদ্রো ভিতে। বলের দখল রাখা, পাসিং সৃষ্টিশীলতা এবং প্রতিপক্ষের পা থেকে ২৩টি বল কেড়ে নিয়ে তিনি মাঝমাঠের সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
রাইট উইংয়ে আছেন টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সেরা পারফরমার ও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন এলএমটেন, যার মধ্যে চলতি আসরের গ্রুপ পর্বেই ৩ ম্যাচে তাঁর গোল সংখ্যা ৬টি। লেফট উইংয়ে জায়গা পেয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যিনি গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচেই গোল করে সেলেসাওদের নকআউটে তুলেছেন।
স্ট্রাইকার পজিশনে নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই ৪ গোল করে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর আক্রমণাত্মক রেটিং এবার ভিনিসিয়ুসের পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাঁর সঙ্গে অন্য স্ট্রাইকার হিসেবে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য এমবাপ্পে ইতিহাসের চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন। বিশ্বকাপ মঞ্চে ১৬ গোল নিয়ে তিনি এখন সর্বকালের সেরাদের তালিকায় মেসির ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন।
|