বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব চায় পুলিশ

প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ণ
বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব চায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাইবার অপরাধ, মানব পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, মানি লন্ডারিং ও অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারে গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এই লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি কোঅপারেশন, ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বাংলাদেশ পুলিশ’ শীর্ষক একটি বিশেষ সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে এই আন্তর্জাতিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এ ছাড়া সভায় ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু.নজরুল ইসলাম কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশন কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় অবদান রাখছে। বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের নিরাপত্তা সুসংহত করার জন্য একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সুসমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছাড়া সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব। দেশের বাইরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম, ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পুলিশ নিরলস কাজ করছে।

সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশ শুধু অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থারও এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার। ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।”

আইজিপি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে কার্যকর পুলিশিং অনেকাংশেই নির্ভর করে ফলপ্রসূ আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে উন্নত সমন্বয়ের ওপর। সব দূতাবাস এবং বিদেশি সংস্থাকে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও সেবাদানকারী ইউনিটগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে, যা একটি কার্যকর যোগাযোগ, দ্রুত সমন্বয় এবং উন্নত অপারেশনাল সহায়তা নিশ্চিত করবে। তিনি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকরভাবে তথ্য বিনিময়, সুসমন্বয় এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন