দিয়োগো জোতার স্মৃতিই বিশ্বকাপে রোনালদোদের অদৃশ্য শক্তি
স্পোর্টস ডেস্ক : গত বছরের ৩ জুলাই স্পেনের বুকে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অকালেই প্রাণ হারিয়েছিলেন ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল ও পর্তুগাল জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার দিয়েগো জোতা। পর্তুগালের ঐতিহাসিক উয়েফা নেশনস লিগের ট্রফি জয়ের অন্যতম এই নায়ক আজ দুনিয়াতে সশরীরে বেঁচে না থাকলেও, দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের হৃদয়ে এখনো অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে পর্তুগাল স্কোয়াডের প্রতিটি সদস্যের জন্য জোতাই এখন সবচেয়ে বড় ‘অদৃশ্য শক্তি’ ও প্রেরণার নাম। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের ছায়াসঙ্গী হিসেবে জোতার এই স্মৃতি দলটিকে বিশ্বজয়ের পথে তাতিয়ে তুলছে।
আজ বুধবার (৩ জুন) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘খেলা’ ও ‘বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে পর্তুগাল শিবিরের এই আবেগঘন আবহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
জাতীয় দলে জোতার অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আল হিলালের মিডফিল্ডার রুবেন নেভেস সরাসরি জানিয়েছেন, জোতার অকাল মৃত্যুর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করেই এবার তারা বিশ্বকাপ জয়ের মহাপ্রতিজ্ঞা করেছেন। নেভেসের দৃঢ় বিশ্বাস, জোতার প্রতি দলের সবার ভালোবাসা ও গভীর আবেগ মাঠের চরম মুহূর্তে তাদের বাড়তি পারফরম্যান্সের শক্তি জোগাবে।
দলের ভেতরের মানসিক অবস্থা তুলে ধরে ২৯ বছর বয়সী রুবেন নেভেস বলেন, “আমরা ড্রেসিংরুমে জোতাকে নিয়ে অনেক কথা বলেছি এবং সবসময় আমাদের একটাই কথা মনে হয়— বড় মঞ্চে মাঝেমধ্যে বাড়তি মানসিক শক্তি পাওয়ার জন্য বিশেষ কিছু আঁকড়ে ধরার প্রয়োজন পড়ে। আমাদের জন্য জোতার স্মৃতি ঠিক তেমনই একটি বিষয়। এটি বিশ্বকাপের মাঠের সুনির্দিষ্ট কোনো কঠিন মুহূর্তে আমাদের ফুটবলারদের পায়ে বাড়তি শক্তি জোগাবে এবং আমরা যেখানে পৌঁছাতে চাই (ফাইনালে), সেখানে যেতে সাহায্য করবে।”
এক বছর আগে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে স্নায়ুক্ষয়ী পেনাল্টি শুটআউটে এই নেভেসের করা জয়সূচক গোলেই পর্তুগালের ট্রফি জয় নির্ধারিত হয়েছিল। বিশ্বকাপে তেমন কোনো মুহূর্তের পুনরাবৃত্তি চান কিনা— এমন প্রশ্নে নেভেস বলেন, “নেশনস লিগের ওই গোলটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ও গুরুত্বপূর্ণ গোল ছিল। এই বিশ্বমঞ্চেও যদি তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি ঘটে যা দলকে পরের রাউন্ডে বা ট্রফি জিততে সাহায্য করবে, তবে তা দারুণ হবে। তবে আমি টাইব্রেকারের ভাগ্য পরীক্ষা নয়, বরং ৯০ মিনিটের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তে চাইব। কারণ দল হিসেবে ট্রফি জেতাটাই আমাদের মূল মনোযোগ।”
এবারের বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বাধীন পর্তুগালকে অন্যতম হট ফেভারিট দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপের মূল প্রস্তুতিতে পুরোদমে নেমে পড়েছে পর্তুগিজরা। তবে বিশ্বমঞ্চের প্রত্যাশার চাপকে খুব একটা বড় প্রতিবন্ধকতা মনে করেন না নেভেস। পিএসজির হয়ে সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা নুনো মেন্দেস, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও গনসালো রামোসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের স্কোয়াডের সব ফুটবলারই ইউরোপের বড় বড় ক্লাবে এমন উচ্চ চাপ সামলাতে অভ্যস্ত। আমরা কাগজে-কলমে তরুণ দল হলেও অভিজ্ঞতায় অনেক পরিপক্ব। আমাদের মূল লক্ষ্য খুব পরিষ্কার— ফাইনালে পৌঁছানো, জয়লাভ করা এবং সোনালী বিশ্বকাপ ট্রফিটি হাতে নিয়ে দেশে ফেরা।”
পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য এসেছিল দীর্ঘ ছয় দশক আগে, ১৯৬৬ সালে কিংবদন্তি ইউসেবিওর হাত ধরে সেবার তারা তৃতীয় হয়েছিল। এরপর ২০০৬ আসরে লুইস ফিগোর ‘সোনালী প্রজন্ম’ চতুর্থ স্থান অর্জন করে। গত ২০ বছরে আর কোনো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখতে পারেনি পর্তুগিজরা, যদিও এই সময়ে তারা ২০১৬ সালের ইউরো এবং দুবার নেশনস লিগ জিতেছে। আগামী ১৭ জুন ডিআর কঙ্গোর (DR Congo) বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে জোতার স্মৃতিকে সঙ্গী করে বিশ্বজয়ের মূল মিশন শুরু করবে রোনালদোর দল।
জান্নাত সকালবেলা