থিয়াগো মেসিকে নিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপের রঙিন স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা
ক্রীড়া ডেস্ক: চার বছর আগে কাতারের মরুভূমিতে যখন সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন লিওনেল মেসি, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন ওটাই মহাতারকার শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু বয়সের সব সমীকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৩৯ বছর বয়সে ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকার মাটিতে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তোলেন এই ফুটবল যাদুকর।
ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে ট্রফি হাতছাড়া হলেও পুরো টুর্নামেন্টে নিজের চিরচেনা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন মেসি। তবে ২০৩০ সালের ঐতিহাসিক শতবর্ষী বিশ্বকাপ যখন বসবে, তখন মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। ওই বয়সে বিশ্বমঞ্চে মহাতারকাকে খেলার মাঠে দেখার সম্ভাবনা বলতে গেলে নেই। তবে ফুটবলপ্রেমীদের আশা ছাড়ার কোনো সুযোগ নেই! সবুজ গালিচায় কিংবদন্তি মেসিকে হয়তো আর পাওয়া যাবে না, কিন্তু তার জ্যেষ্ঠ পুত্র থিয়াগো মেসিকে আকাশি-নীল জার্সিতে দেখার রঙিন স্বপ্ন এখন থেকেই বুনতে শুরু করেছেন কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থক।
বর্তমানে ১৩ বছরে পা রাখা থিয়াগোকে ঘিরে নেটদুনিয়ায় একটি চমকপ্রদ গাণিতিক হিসাব ঘুরে বেড়াচ্ছে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে থিয়াগোর বয়স হবে ঠিক ১৮ বছর। সেই হিসেবে, তরুণ এই ফুটবলার যদি তার পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দ্রুততম সময়ে পেশাদার ফুটবলে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, তবে বিশ্বমঞ্চে তরুণ মেসিকে দেখার অমূল্য দৃশ্যটি বাস্তবে রূপ নেওয়া অসম্ভব কিছু নয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে ফুটবলের নিয়মিত পাঠ নিচ্ছে থিয়াগো। ইতোমধ্যে দলটির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও উঁচিয়ে ধরেছে সে। ফ্লোরিডার ক্লাবে থিয়াগোর প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন ভক্তরা।
জন্মসূত্রে স্পেনের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ থাকলেও, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগেই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছে তরুণ এই ফুটবলার। একাধিক সাক্ষাৎকারে থিয়াগো জানিয়েছে, স্পেনের পক্ষ থেকে আহ্বান থাকলেও বাবার দেখানো পথ ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলতেই সে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। জাতীয় দলের হয়ে বাবার ঐতিহ্য ধরে রাখার এই ইচ্ছাই এখন ২০৩০ বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আর্জেন্টাইন ভক্তদের মূল উদ্দীপনা।
মেসি পরিবারে অবশ্য ফুটবলের চর্চা কেবল থিয়াগোতেই সীমাবদ্ধ নয়; তার দুই ছোট ভাই মাতেও ও চিরোও ইন্টার মায়ামি একাডেমিতে নিজেদের মেধার জানান দিচ্ছে। তবে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাবার অর্জিত হিমালয়সম উচ্চতা স্পর্শ করা যেকোনো সন্তানের জন্যই কঠিন পরীক্ষা। তাই তরুণ থিয়াগোর ওপর শুরুতেই কোনো অযাচিত চাপ তৈরি না করে, তাকে স্বাভাবিক নিয়মে ফুটবলে বেড়ে উঠতে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।
|